আনাদোলু
নীলনদের ওপর ইথিওপিয়াকে নতুন করে কোনো বাঁধ নির্মাণ করতে দেয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে মিশর। ইথিওপিয়ার গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যাম (জিইআরডি) নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে কায়রো। মঙ্গলবার মিসরের সেচমন্ত্রী হানি সুয়েইলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, জিইআরডির পাশাপাশি নীলনদের ওপর আরো তিনটি বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা করছে ইথিওপিয়া। যদিও আদ্দিস আবাবা আনুষ্ঠানিকভাবে এসব খবরের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। কায়রোতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হানি সুয়েইলাম বলেন, ‘ইথিওপিয়ার যে নতুন বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, তা সবারই জানা। কিন্তু মিসরীয় রাষ্ট্র কি তা মেনে নেবে? না।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, জিইআরডির পরিচালনার তথ্য আদান-প্রদানের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও আইনিভাবে বাধ্যতামূলক কাঠামোর দাবি বারবার জানিয়ে আসছে মিসর। এর ফলে ভাটি অঞ্চলের দেশ মিসর ও সুদান প্রত্যাশিত পানিপ্রবাহ এবং বার্ষিক পরিচালনা পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে পারবে। সেচমন্ত্রী জানান, এই ধরনের তথ্যের অভাবে সুদান অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়ছে। ইথিওপিয়া থেকে পানি ছাড়ার পরিমাণ ও সময় সম্পর্কে সঠিক তথ্য না থাকায় সুদানের কর্তৃপক্ষ কার্যকরভাবে তাদের নিজস্ব বাঁধ পরিচালনা বা পানি সংরক্ষণ করতে পারছে না।
তিনি আরো বলেন, ‘এসব পরিস্থিতিতে পানি ব্যবস্থাপনায় কোনো ব্যাঘাত ঘটলে তার জন্য সুদানকে দায়ী করা উচিত নয়।’ ভাটি অঞ্চলের দেশগুলোর সাথে তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয়ের জন্য আইনিভাবে বাধ্যতামূলক কাঠামো মেনে চলতে অস্বীকৃতি জানানোয় এর দায়ভার ইথিওপিয়ার ওপরই বর্তায় বলে তিনি উল্লেখ করেন। মন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন, জিইআরডিতে পানি পূর্ণ করা এবং এর পরিচালনার জন্য একটি আইনি চুক্তিতে পৌঁছতে মিসর বদ্ধপরিকর। এর মাধ্যমে নিয়মিত তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করা হবে, যা সকল পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করবে এবং অভিন্ন পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার ঝুঁকি কমাবে।
মিসরের মন্ত্রীর এমন মন্তব্যের বিষয়ে ইথিওপিয়া তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। ২০১১ সালে জিইআরডির নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই এর পরিচালনা ও পানি পূর্ণ করা নিয়ে ইথিওপিয়ার সাথে মিসর ও সুদানের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। প্রকল্পটি পুরোপুরি চালু হওয়ার আগে একটি আইনিভাবে বাধ্যতামূলক ত্রিপক্ষীয় চুক্তির দাবিতে অনড় কায়রো ও খার্তুম।



