নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বল্প দাম কিন্তু অনেক বেশি ব্যবহার হয় এমন ছোট ছোট মেডিক্যাল ডিভাইসও বাংলাদেশে তৈরি হয় না। অথচ একটু প্রণোদনা পেলে ছোট ছোট এসব ডিভাইস দেশেই উৎপাদন করে কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচানো সম্ভব। ছোট, স্বল্পদাম কিন্তু দেশে তৈরি না হওয়ায় প্রতি বছর কয়েক হাজার কোটি টাকা বিদেশে চলে যাচ্ছে। যেমন ডায়াবেটিস মাপার গ্লোকোমিটার, উচ্চ রক্তচাপ ও বুকের অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য স্টেথোস্কোপ, অপারেশন টেবিলে ব্যবহার হয় ছোট ছোট যন্ত্রপাতি। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয়ের সহায়তায় এসব যন্ত্রপাতি চেষ্টা করলেই বাংলাদেশে তৈরি করা সম্ভব বলে আশা প্রকাশ করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন।
গতকাল রোববার ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশসমূহে সাশ্রয়ী, উপযোগী ও টেকসই স্বাস্থ্য প্রযুক্তিগত বৈষম্য দুরীকরণ (আইসিএটিএইচ-এলএমআইসি ২০২৬) উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন। তিনি সবার উদ্দেশে বলেন, আমরা এসব ছোট ছোট যন্ত্রপাতিগুলো চেষ্টা করলেই উৎপাদন করতে পারি। যারা এসব উদ্ভাবনে এগিয়ে আসবেন তাদের সম্ভব সব ধরনের সহায়তা দেয়া হবে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগ (বিএমপিটি), বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ, বিআইবিইএটি লিমিটেড, জেস রিলেটেড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি সোসাইটি (আরএসটিএস) যৌথভাবে স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করেছে। আয়োজকরা বলছেন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, প্রকৌশল ও গবেষণার এই সমন্বিত উদ্যোগ দেশের স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি খাতে একটি নতুন মাইলফলক হতে পারে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের সমন্বিত উদ্যোগে সহজেই এসব মেডিক্যাল ডিভাইস দেশে উৎপাদন করা সম্ভব। মেডিক্যাল ডিভাইস শিল্প গড়ে তুলে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব এবং স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবনে একটি আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় অধ্যাপক এ কে ডা: আজাদ খান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: আনোয়ার হোসেন, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ^বিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা: এফ এম সিদ্দিকী, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী প্রমুখ।
দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে দেশী-বিদেশী বিশেষজ্ঞরা উপযুক্ত স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা, মেডিক্যাল ডিভাইস, টেলিমেডিসিন এবং নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোর জন্য টেকসই প্রযুক্তি উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করবেন। সম্মেলনের অন্যতম লক্ষ্য হলো বিশ্ববিদ্যালয়, সরকার, শিল্পখাত ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো এবং স্বল্প ব্যয়ে স্থানীয়ভাবে উদ্ভাবিত স্বাস্থ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন ও ব্যবহারকে উৎসাহিত করা।
উদ্বোধনী অধিবেশনে সেরিমোনিয়াল চেয়ার অধ্যাপক ডা: সৈয়দ মো: আকরাম হোসেন ঘোষণা করেন, আইসিএটিএইচ-এলএমআইসি পরবর্তী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ২০২৭ সালের নভেম্বর মাসে হবে। তিনি দেশী-বিদেশী গবেষক, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, উদ্ভাবক এবং নীতিনির্ধারকদের আরো বৃহত্তর অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, আইসিএটিএইচ-এলএমআইসি ২০২৬ বাংলাদেশে মেডিক্যাল ডিভাইস উদ্ভাবন, গবেষণা, প্রযুক্তি স্থানান্তর, স্থানীয় উৎপাদন এবং স্বাস্থ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোর জন্য সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



