খুলনা ব্যুরো
খুলনা দিঘলিয়ায় হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় স্কুলের বাথরুম থেকে নন্দিনী রায় নামক ছাত্রীকে (১৬) উদ্ধার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তালাবদ্ধ বাথরুমের ভেতর থেকে গোঙানির শব্দ শুনে নির্মাণ শ্রমিকরা তালা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে।
গ্রামবাসী ও পুলিশ জানায়, দিঘলিয়া উপজেলার গাজীরহাট ইউনিয়নের ডোমার গ্রামের মুক্তিশ্বর রায়ের মেয়ে নন্দিনী রায় গাজীরহাট নঈমউদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে তার স্কুল ছুটি হয়। এরপর শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় ত্যাগ করে। সন্ধ্যা ৭টায় বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজে নিয়োজিত কয়েকজন শ্রমিক একটি বাথরুমের ভেতর থেকে অস্বাভাবিক শব্দ শুনতে পায়। কাছে গিয়ে নারীকণ্ঠের গোঙানি শুনে তাদের সন্দেহ হয়। পরে বাথরুমের তালা ভেঙে তারা ভেতরে ঢুকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় এক ছাত্রীকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তারা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় বাজারের চিকিৎসক মফিজুর রহমানের চেম্বারে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর তাকে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তার মায়ের দাবি, স্কুল ছুটির পর বাথরুমে ঢোকার সময় পেছন থেকে কেউ তার মেয়ের মাথায় আঘাত করে। এতে সে মাটিতে পড়ে গেলে দুর্বৃত্তরা তার হাত-পা ও মুখ বেঁধে বাথরুমে রেখে যায়। তিনি আরো অভিযোগ করেন, তার মেয়ের শরীরে ইনজেকশন পুশ করা হয়েছে। এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্লেড দিয়ে কাটার চিহ্ন রয়েছে।
দিঘলিয়া থানার ওসি হাওলাদার সানওয়ার হুসাইন মাসুম বলেন, ক্লিনিকে পরিবারের সদস্যদের সাথে সে কথা বলেছে। হামলাকারীদের সে দেখতে পায়নি। জানতে পেরেছি, ঐ ছাত্রীর বাবা একটি এনজিও চালাতেন। তিনি অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। সে টাকা পরিশোধ না করে তিনি কোথাও লুকিয়ে আছেন।
তবে, কারা কী উদ্দেশে- এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি।



