শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা
ঈদের দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে সুন্দরবনে বন অপরাধ প্রতিরোধে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে বন বিভাগ। এ কারণে বন রক্ষায় নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এবারও ঈদের ছুটি পাচ্ছেন না। বন সংরক্ষণের স্বার্থে তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করে দায়িত্ব পালন করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বন বিভাগ জানিয়েছে, ঈদের ছুটির সুযোগ নিয়ে প্রতি বছর সুন্দরবনে হরিণ শিকার, বিষ প্রয়োগে মাছ ধরা এবং অগ্নিকাণ্ডের মতো অপরাধ বেড়ে যায়। এসব অপরাধ প্রতিরোধে পূর্ব সুন্দরবন এলাকায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি স্মার্ট টিমের বিশেষ টহল ও বনরক্ষীদের নিয়মিত টহল কার্যক্রম আরো জোরদার করা হয়েছে।
এ ছাড়া সুন্দরবনের পাশের ৭৬টি গ্রামে ওয়াইল্ড টিম, ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম (ভিটিআরটি), কমিউনিটি প্যাট্রোলিং গ্রুপ (সিপিজি) এবং ‘বাঘ বন্ধু’ সংগঠনের প্রায় দেড় শতাধিক সদস্য গ্রাম পাহারায় নিয়োজিত রয়েছেন। তারা বন বিভাগের সাথে সমন্বয় করে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছেন।
সুন্দরবন সুরক্ষায় কাজ করা ওয়াইল্ড টিমের ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর আলম হাওলাদার বলেন, সারা বছরই বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তারা কাজ করেন। তবে ঈদের সময় চোরা শিকারিদের তৎপরতা বেড়ে যায়। এ কারণে বনের পাশের গ্রামগুলোতে ১৪৮ জন সদস্য সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন, যাতে কোনো অপরাধী সুযোগ নিতে না পারে।
সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করীম চৌধুরী জানান, ঈদের ছুটিতে বন অপরাধ ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। হরিণসহ বন্যপ্রাণী শিকার, বিষ প্রয়োগে মাছ ধরা এবং অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে বনরক্ষীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, গত বছরও ঈদের সময় বনরক্ষীরা ছুটি পাননি এবং এতে বন অপরাধ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে ছিল।



