নিজস্ব প্রতিবেদক
সৌদি আরবে বাংলাদেশী শ্রমিকদের পরিচালনায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে অন্তত ১৬ বাংলাদেশী শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে দেশটির ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তার আগেই ১৬ শ্রমিক পুড়ে মারা যান। তাদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মরচুয়ারিতে পাঠানো হয়। ঘটনার কিছুক্ষণ আগে একজন কর্মী বের হয়ে যাওয়ায় তিনি প্রাণে রক্ষা পান।
সৌদি সরকার জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় নিশ্চিতে আঙুলের ছাপ নেয়া হবে। সেটি সম্ভব না হলে ডিএনএ টেস্টের প্রয়োজন হতে পারে।
আগুনে প্রবাসী বাংলাদেশী শ্রমিকদের মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
নিহত প্রবাসীরা হচ্ছেন নওগাঁ জেলার আত্রাই থানার উজানপই গ্রামের ফরিদ, একই জেলার ডুবাই গ্রামের শুভ, সুমন, নওগাঁ পরেশনগর গ্রামের মো: রুবেল প্রামাণিক, আত্রাই পরেশনগর গণ্ডগোহালী গ্রাামের মো: কলিম উদ্দিন, একই গ্রামের মোহন, মো: সুমন, নওগার আত্রাইয়ের অজ্ঞাত গ্রামের মিনহাজ, আত্রাইয়ের বোয়ালা গ্রামের হৃদয়, আত্রাইয়ের শাহিন, একই জেলার খরস্রাতা গ্রামের আব্দুল জলীল ও মজিদুল, নওগাঁ সাদনগর গ্রামের সাগর, নাটোর নলডাংগার খাজুরা গ্রামের সাব্বির, নাটোর দিঘরিপাড় গ্রামের শামিম এবং রাজশাহীর বাগমারার ডাংগাপাড়া মরুগ্রামের শ্যামল।
এ দিকে গতকাল সোমবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে সর্বশেষ তথ্য জানিয়ে বলা হয়, স্থানীয় সময় ৯ আগস্ট বেলা ২টার দিকে রিয়াদ মহানগরীর শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় বাংলাদেশী কর্মীদের পরিচালনাধীন একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে মোট ১৬টি লাশ উদ্ধার করেছেন মর্মে নিশ্চিত করেছেন। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শটসার্কিট থেকে এ দুর্ঘটনার সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সৌদি আরবের সময় রাত ১১টায় উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত হয়। দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, অগ্নিকাণ্ড থেকে রক্ষা পাওয়া ওই কারখানার একমাত্র জীবিত শ্রমিক হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, দুপুর দেড়টার দিকে তিনি চুল কাটার জন্য সেলুনে যান। ফিরে এসে দেখেন কারখানায় আগুন জ্বলছে। তিনি জানান, উক্ত কারখানায় মোট ১৭ জন বাংলাদেশী কর্মী কাজ করতেন। দুর্ঘটনায় ১৬ জনই ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেছেন। স্থানীয় সিভিল ডিফেন্স সূত্রে জানা যায়, আটজন সরাসরি আগুনে পুড়ে এবং অন্য আটজন বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যান। নিহতরা ওই কারখানার একাংশে বসবাস করতেন। দুর্ঘটনায় তাদের সবার পাসপোর্ট ও ইকামা পুড়ে গেছে। তাদের পরিচয় শনাক্তে বাংলাদেশ দূতাবাস সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সৌদি কর্তৃপক্ষের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। শিফা থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ফয়সাল আলউতাইবি জানান, লাশের ডকুমেন্ট নষ্ট হয়ে গেছে। এর জন্য তাদের আঙুলের ছাপ নিয়ে লাশ শনাক্ত করতে হবে। না হলে ডিএনএর প্রয়োজন হতে পারে। লাশ শনাক্তের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের অনুকূলে মৃত্যু সনদ ইস্যু করবেন। এরপর সৌদি অথবা বাংলাদেশে লাশ পাঠানো সংক্রান্ত বিষয়ে মৃতের পরিবারের লিখিত মতামতের ভিত্তিতে জরুরি পদক্ষেপ নেয়া হবে।
গতকাল প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের একজন কর্মকর্তা জানান, প্রবাসী বাংলাদেশীদের লাশ সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এ অবস্থায় কারো লাশই শনাক্ত করা যাচ্ছে না। এসব লাশ পরিবারের মতামতে নিয়ে সৌদি আরবে দাফন করা হতে পারে বলে মতামত প্রকাশ করেন।



