আলজাজিরা
মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্ঘাত, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সঙ্কটকে কেন্দ্র করে আয়োজিত ১১ জাতির ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। শুক্রবার নয়াদিল্লির পালাম বিমানঘাঁটিতে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং। দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের সাইডলাইনে পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং পৃথকভাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন।
২০০৯ সালে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর ফোরাম হিসেবে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে গঠিত হয় ব্রিকস। সম্প্রতি জোটের সম্প্রসারণ ঘটিয়ে ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক মেরুকরণ নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম কোনো ইরানি প্রেসিডেন্ট ভারত সফর করছেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক হার্শ ভি পান্ত ও শিলান শাহের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্ঘাত ও হরমুজ প্রণালীর সঙ্কটের কারণে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে, যা ব্রিকসের একতা ও কূটনৈতিক অগ্রযাত্রায় বড় পরীক্ষা নেবে।
বিশ্বব্যাপী চলা এই জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সঙ্কট কাটাতে ভারত তার কৌশলগত মিত্র রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে, মার্কিন চাপ সামলে রাশিয়া ও ইরানের পাশাপাশি দিল্লির সাথে ইসরাইল এবং ওয়াশিংটনেরও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে। উল্লেখ্য, পুতিন চলতি মাসের শুরুতে কিরগিজস্তানের বিশকেকেও মোদির সাথে বৈঠক করেছিলেন। এর পাশাপাশি, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সম্প্রতি কিয়েভ সফর করায় ইউক্রেন যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধানের ক্ষেত্রেও দিল্লির ভূমিকা আলোচনায় রয়েছে।
এদিকে, ২০২০ সালে হিমালয় সীমান্তে প্রাণঘাতী সামরিক সংঘর্ষের ছয় বছর পর এই প্রথম ভারত সফরে এসেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ২০১৯ সালের পর তার প্রথম এই সফর দুই প্রতিবেশী পরাশক্তির বরফগলা সম্পর্ক ও ভিসা সংক্রান্ত যোগাযোগ আবার চালুর ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও সীমান্ত বিরোধ ও বাণিজ্যিক ঘাটতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব রয়েই গেছে।



