বিজিবি দিবসে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

অপরাধীদের আটকাতে সীমান্তে কঠোর সতর্কতার নির্দেশ

Printed Edition
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ঢাকার পিলখানায় বিজিবি দিবসের অনুষ্ঠানে বিশেষ অবদান রাখা সদস্যদের পদক পরিয়ে দেন  : নয়া দিগন্ত
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ঢাকার পিলখানায় বিজিবি দিবসের অনুষ্ঠানে বিশেষ অবদান রাখা সদস্যদের পদক পরিয়ে দেন : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

কোনো অপরাধী যাতে সীমান্ত দিয়ে পালাতে না পারে সেজন্য বিজিবিকে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, সীমান্ত রক্ষা পবিত্র দায়িত্ব। আপনারা সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করবেন।

গতকাল সোমবার পিলখানায় বিজিবি সদর দফতরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দিবস-২০২৫ উদযাপন, কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পদক প্রদান এবং খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ থেকে যাতে কোনো অপরাধী, সন্ত্রাসী সীমান্ত দিয়ে পলায়ন করতে না পারে সে বিষয়ে বিজিবিকে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিজিবি একটি গৌরবময় ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। বর্তমানে বিজিবি একটি ‘ত্রিমাত্রিক বাহিনী’ হিসেবে সীমান্ত সুরক্ষা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা এবং জনকল্যাণমূলক কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। বিজিবির সার্বিক উন্নয়নে সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সীমান্ত দিয়ে কোনো ধরনের মাদক দেশে প্রবেশ করতে দেয়া যাবে না। স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত সতর্কতা জোরদার করতে হবে। একই সাথে অবৈধ পথে দেশীয় পণ্য বিদেশে পাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

চোরাকারবারি ও মাদক পাচারকারীদের সাথে জড়িত কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। পাশাপাশি অধীনস্ত সদস্যদের কল্যাণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সর্বদা সজাগ ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সীমান্তসংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা অত্যন্ত কৌশল ও দক্ষতার সাথে মোকাবেলা করতে হবে, যাতে দেশের স্বার্থ শতভাগ সুরক্ষিত থাকে। সীমান্ত ব্যবহারকারী চোরাকারবারিদের আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে নিবিড় সমন্বয় বজায় রাখার নির্দেশ দেন তিনি।

উপদেষ্টা বিজিবি সদস্যদের ‘চেইন অব কমান্ড’-এর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও আনুগত্য বজায় রাখার নির্দেশ দেন। একইসাথে সীমান্ত রক্ষার পবিত্র দায়িত্বের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার যেকোনো দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সাথে পালন করার আহ্বান জানান।

নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, জাতীয় নির্বাচনের সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। বিজিবিও সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের প্রায় ৩৫ হাজার সদস্য নির্বাচনের সময় নিয়োজিত থাকবে। এর মধ্যেও দুই-চারটা অস্ত্র যে দেশে ঢুকছে না তা না। তবে এগুলো ধরাও হচ্ছে। প্রতিদিনই বিদেশী অস্ত্র উদ্ধার করা হচ্ছে। কোনো রকমের কোথাও ছাড় দেয়া হচ্ছে না। নির্বাচন নিয়ে এখন কোনো শঙ্কা নেই। এবারই নির্বাচনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কেরানীগঞ্জ মাদরাসায় বিস্ফোরণের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, কেরানীগঞ্জে যেই ব্যক্তি অপকর্ম ঘটিয়েছে সে পলাতক রয়েছে। কিন্তু তার সহযোগীকে ধরা হয়েছে। পলাতক ওই ব্যক্তিকেও ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এসব ঘটনা সুষ্ঠু নির্বাচনে বাধা হয়ে দাঁড়াবে কিনা- এমন এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ফ্যাসিস্ট যারা আছে তারা সব সময়ই এটা বাধা দেয়ার চেষ্টা করবে। কিন্তু সবার সহযোগিতা যদি থাকে তবে নির্বাচন সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর হবে। সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। এ রকম একটা নির্বাচনই এই সরকারের দেয়ার ইচ্ছা এবং এটা বাস্তবায়ন করবে।

এ সময় বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী গত এক বছরে বিজিবির নানান অর্জন ও বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিজিবি আজ অতীতের সব সময়ের চেয়ে বেশি সুসংগঠিত।

আভিযানিক কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা তৎপরতা, পারস্পরিক যোগাযোগ ও খেলাধুলা এই পাঁচটি বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে বিজিবি সব কার্যক্রম পরিচালনা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, সব ক্ষেত্রে আমরা হয়তো শতভাগ সার্থক হতে পারিনি, তবে আমাদের প্রচেষ্টায় কোনো ধরনের কমতি ছিল না। ভবিষ্যতেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক অর্পিত যেকোনো দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালনে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নির্বাচনী দায়িত্ব সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে পালনে বিজিবি বদ্ধ পরিকর বলেও প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা বিজিবিতে কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পদকপ্রাপ্তদের পদক পরিয়ে দেন। এ বছর ১২ জনকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ পদক (বিজিবিএম), ২৪ জনকে রাষ্ট্রপতি বর্ডার গার্ড পদক (পিবিজিএম), ১২ জনকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ পদকসেবা (বিজিবিএমএস) এবং ২৪ জনকে রাষ্ট্রপতি বর্ডার গার্ড পদকসেবাসহ (পিবিজিএমএস) সর্বমোট ৭২ জনকে বিভিন্ন পদকে ভূষিত করা হয়।