নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

ওসমান হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট কাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
Printed Edition

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) মো: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এই হুঁশিয়ারি দেন।

ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় আগামী ৭ জানুয়ারি চূড়ান্ত চার্জশিট দেয়া হবে।

তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন কোনোভাবেই বিঘিœত না হয়, সেজন্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কেউ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, আইজিপি বাহারুল আলম, র‌্যাব মহাপরিচালক, বিজিবি মহাপরিচালক, ডিএমপি কমিশনার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ব্রিফিংয়ে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় আগামী ৭ জানুয়ারি (কাল) চূড়ান্ত চার্জশিট দেয়া হবে। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার এ মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই এ হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিহত করতে যথাযথ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সভায় দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা প্রস্তুতি, জুলাইয়ের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা/বিচারকার্যক্রমের অগ্রগতি, অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ এর অগ্রগতি পর্যালোচনা, অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারকরণ এবং সীমান্ত ও পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন কোনোভাবেই বিঘিœত না হয়, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেছি। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশব্যাপী গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম আরো জোরদার করাসহ অধিক সক্রিয় ও তৎপর থাকা এবং সব বাহিনীর গোয়েন্দা তথ্য-উপাত্ত সমন্বয় করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সর্বস্তরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের দ্রুত প্রশিক্ষণ সম্পন্নের বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সব বাহিনীকে সমন্বিতভাবে ও মাঠপর্যায়ে আরো সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক কর্মসূচি ও প্রচার-প্রচারণাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সভায় নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

তিনি বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানে অটল। যারা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করবেন, তারা ব্যর্থ হবেন- এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে আরো কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এবারের জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর বা নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো অপতৎপরতা প্রতিরোধে ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ভোটকেন্দ্রসহ যেকোনো সময় যেকোনো স্থানে প্রবেশ করতে পারবেন। তিনি বলেন, সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে যে রাস্তাঘাট বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

তিনি বলেন, সহযোগী সেজে ফ্যাসিস্টের এজেন্ট বা নাশকতাকারীরা যাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে অনুপ্রবেশ ঘটাতে না পারে, সে বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক দোষারোপে নাশকতাকারীরা যাতে সুযোগ না নিতে পারে বা পার পেয়ে যেতে না পারে, সে বিষয়েও রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে চালু হওয়া অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ অভিযানে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৪ হাজার ৫৬৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তা ছাড়া এ অভিযানে ২০১টি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৫৪১ রাউন্ড গুলি, ৫৬৬ রাউন্ড কার্তুজ, ১৬৫টি দেশীয় অস্ত্র, গ্রেনেড, মর্টারের গোলা, গান পাউডার, আতশবাজি, বোমা তৈরির উপকরণ ইত্যাদি উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় মামলা ও ওয়ারেন্টমূলে ১৯ হাজার ২৩৫ জনসহ সর্বমোট ৩৩ হাজার ৮০৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ এর অংশ হিসেবে চেকপোস্ট ও টহলের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি করা হয়েছে যাতে সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীরা পার না পেয়ে যায় এবং অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার আরো বৃদ্ধি পায়।

তিনি বলেন, সভায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণœ রাখার উদ্দেশ্যে সরকারের দৃঢ় প্রতিজ্ঞা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধ এবং উসকানিমূলক বক্তব্য পরিহারের বিষয়েও সভায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

তিনি বলেন, সভায় বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, চোরাচালান, মাদক ও অন্যান্য অপরাধ দমনে কঠোর নজরদারি এবং পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখার বিষয়ে নিবিড় আলোচনা হয়েছে। ইতোমধ্যে সীমান্ত ও পার্বত্য এলাকায় নিয়মিত টহল এবং বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে।