গাজীপুরের শালবন দখল অব্যাহত তদারকি নিয়ে প্রশ্ন

Printed Edition
গাজীপুরের শালবন দখল অব্যাহত তদারকি নিয়ে প্রশ্ন
গাজীপুরের শালবন দখল অব্যাহত তদারকি নিয়ে প্রশ্ন

মো: আজিজুল হক গাজীপুর

গাজীপুরের সংরক্ষিত শালবন দখল অব্যাহত থাকার অভিযোগ উঠেছে। বন বিভাগের একাংশের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্বল তদারকি, প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং অনিয়মের সুযোগে জেলার বিভিন্ন রেঞ্জে বনভূমিতে অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও সংশ্লিষ্টরা। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও বনভূমি দখল বন্ধ হয়নি। সংশ্লিষ্টদের দাবি, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পরও দখল অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, গত পাঁচ মাসে গাজীপুরে দখল হওয়া বনভূমি উদ্ধারে বড় ধরনের কোনো উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়নি। এ সুযোগে বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে ঘরবাড়ি, দোকানপাট, গ্যারেজসহ নানা স্থাপনা নির্মিত হয়েছে।

পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর দাবি, কাগজে-কলমে গাজীপুরে ৫২ হাজার একরের বেশি সিএস গেজেটভুক্ত বনভূমি থাকলেও গত দুই দশকে এর অর্ধেকের বেশি দখল হয়ে গেছে। বিশেষ করে গত প্রায় দুই বছরে দখলের হার বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় অঞ্চল বন সংরক্ষক (সিএফ), বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

সবচেয়ে বেশি অভিযোগ রয়েছে কালিয়াকৈর রেঞ্জের চন্দ্রা বিটকে ঘিরে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, গত প্রায় ১৯ মাসে সেখানে তিন হাজারের বেশি অবৈধ ঘরবাড়ি, দোকান ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মিত হয়েছে। বন বিভাগের তালিকায় ১ হাজার ৩৮০ জন দখলদারের নাম অন্তর্ভুক্ত হলেও কার্যকর উচ্ছেদ হয়নি বলে অভিযোগ। একইভাবে মৌচাক বিটে দুই হাজারের বেশি অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সাবেক বিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দখলদারদের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত না করার অভিযোগও স্থানীয়দের।

শ্রীপুর রেঞ্জের সদর, কাওরাইদ ও সাতখামার বিটেও গত প্রায় দুই বছরে কয়েক হাজার অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠার দাবি স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মহলের। এ ছাড়া কালিয়াকৈরের কাচিঘাটা রেঞ্জে বনজ গাছ কাটা ও বনভূমি দখলে সহায়তার অভিযোগও রয়েছে।

এ দিকে গত জুনে বনভূমি ও সরকারি খাসজমি দখল নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামিকে ঘিরেও বনভূমি দখলের অভিযোগ সামনে আসে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বারুইপাড়া ও রাজেন্দ্রপুর পশ্চিম বিটের সংরক্ষিত বনভূমির বিভিন্ন অংশে অবৈধ বসতি ও ভবন নির্মাণ করে ভাড়া আদায়ের ঘটনাও ঘটেছে। এসব কর্মকাণ্ডে বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ করা হলেও এর স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে চন্দ্রা বিট কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, তার দায়িত্বকালে নতুন করে কোনো বনভূমি দখল হয়নি; বরং কিছু বনভূমি উদ্ধার করা হয়েছে। কালিয়াকৈর রেঞ্জ কর্মকর্তা শহিদুল হাসান শাকিল বলেন, জবরদখলসংক্রান্ত তথ্যের বিষয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয় বক্তব্য দিতে পারবে।

শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের পর প্রায় ১২ একর বনভূমি দখল হলেও এর মধ্যে চার একর উদ্ধার করা হয়েছে। গত তিন বছরে বনায়নের মাধ্যমে ৩৪০ একর বনভূমি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রশাসনিক সহায়তার অভাবে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে না। তার ভাষ্য, প্রশাসনের সহযোগিতা বাড়লে বনভূমি রক্ষায় কার্যক্রম আরো জোরদার করা সম্ভব হবে।