ময়মনসিংহ অফিস
দেশের চলমান জ্বালানি সঙ্কট কাটিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে অন্তত দুই বছর লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা: জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ঘাটতি ও অব্যবস্থাপনার প্রভাবেই বর্তমান জ্বালানি সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। ফলে রাতারাতি এ সঙ্কটের সমাধান সম্ভব নয়।
গতকাল মঙ্গলবার ময়মনসিংহ নগরের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন মিলনায়তনে নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ডা: জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশের মানুষের জ্বালানি সঙ্কটজনিত দুর্ভোগের বিষয়টি সরকার উপলব্ধি করছে। প্রধানমন্ত্রীও এ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে বর্তমান সঙ্কটের দায় এককভাবে বর্তমান সরকারের ওপর চাপানো সঠিক হবে না। বছরের পর বছর ধরে তৈরি হওয়া ঘাটতির কারণেই পরিস্থিতি আজকের পর্যায়ে এসেছে।
তিনি জানান, বর্তমানে দেশে গ্যাসের চাহিদার তুলনায় সরবরাহে প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট ঘাটতি রয়েছে। সাম্প্রতিক দুর্ঘটনায় দু’টি প্ল্যান্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সঙ্কট আরো তীব্র হয়েছে। প্ল্যান্ট দু’টি চালু হলেও গ্যাসের ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ হবে না। জ্বালানি সঙ্কট মোকাবেলায় সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি নানা উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। গ্যাসিফিকেশন প্ল্যান্টের দুর্ঘটনার পর দ্রুত একটি নতুন প্ল্যান্টের অর্ডার দেয়া হয়েছে। ব্যাকআপ হিসেবে আরো দু’টি প্ল্যান্ট আনার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তবে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে সময় প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডে আনার সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। একই সাথে এলএনজি আমদানি এবং স্থলভাগে নতুন করে গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ শুরু হয়েছে। সরকারের তথ্য ও জরিপের ভিত্তিতে দেশের স্থলভাগে ৪০ থেকে ৫০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি। অথচ প্রতি বছর দেশে প্রায় ১ দশমিক ৩ থেকে ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়। এত দিন সম্ভাব্য মজুদ অনুসন্ধানে তেমন গুরুত্ব দেয়া হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জ্বালানি পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে দেশে জ্বালানির ক্ষেত্রে ভালো বা অনেকটা ভালো অবস্থায় ফিরতে। এই সময়ের মধ্যেও মানুষের জীবনযাত্রা যাতে অসহনীয় হয়ে না ওঠে, সে জন্য সরকার দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, এলএনজির আন্তর্জাতিক বাজার বর্তমানে অত্যন্ত অস্থির। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালী এবং বাব-এল-মান্দেব ঘিরে সম্ভাব্য সঙ্কট জ্বালানি সরবরাহকে আরো অনিশ্চিত করে তুলতে পারে।
তিনি বলেন, সরকারি প্রতিটি স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সাথে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
সভায় ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো: আবু ওয়াহাব আকন্দ, ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



