ফেনী-১ আসন

ভারতের পানি আগ্রাসন নিয়ে বিএনপি জামায়াতের নির্বাচনী প্রচারণা

Printed Edition
বেগম খালেদা জিয়া, এস এম কামাল উদ্দিন, কাজী গোলাম কিবরিয়া
বেগম খালেদা জিয়া, এস এম কামাল উদ্দিন, কাজী গোলাম কিবরিয়া

মুহাম্মদ আবুল হাসান ছাগলনাইয়া-পরশুরাম (ফেনী)

তফসিল ঘোষণার আগেই আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের আলোচিত ভিআইপি আসন ফেনী-১ রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন পর এ আসন ফিরে পেতে মাঠে নেমেছে বিএনপি। আর নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে নিয়মিত সভা-সমাবেশ, মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা ও উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে সংগঠনকে চাঙ্গা করছে জামায়াত। দুই দলের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারও এই আসনে আলোচনার কেন্দ্রে, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও জামায়াত নেতা অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন, দুজনেরই পৈতৃক বাড়ি ফুলগাজীতে।

এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এনসিপি ও এবি পার্টিসহ কয়েকটি দল প্রার্থী দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতোমধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী কাজী গোলাম কিবরিয়ার সমর্থনে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা হয়েছে।

ফেনী-১ আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৮০ হাজার ৭২৭ জন, যার মধ্যে ছাগলনাইয়া এক লাখ ৭৫ হাজার ৮৭০, ফুলগাজী এক লাখ ১১ হাজার এবং পরশুরাম ৯৩ হাজার ৮৫৭ জন।

প্রচারাভিযানে ভারতের পানি আগ্রাসন : ভারত সীমান্তবর্তী এই আসনে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের ভয়াবহ বন্যার অভিজ্ঞতা এখন নির্বাচনী প্রচারণার মূল ইস্যু। পাহাড়ি ঢল ও হঠাৎ উজান থেকে পানি ছেড়ে দেয়ায় তলিয়ে যায় তিন উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ, ক্ষতিগ্রস্ত হয় লাখো মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভারতের তরফ থেকে মানবসৃষ্ট বন্যা নামিয়ে আনা হয়েছে বাঁধ কেটে পানি ছাড়ার মাধ্যমে।

এই ক্ষোভকে সংগঠিত রাজনৈতিক বার্তায় রূপ দিয়েছে বিএনপি ও জামায়াত। প্রচারণায় তারা গুরুত্ব দিচ্ছে- মুহুরী-কহুয়া নদীর তীরে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, বল্লামুখা বাঁধ রক্ষা, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, মুহুরীর চরে বাংলাদেশের কৃষকদের প্রবেশে ভারতের বাধা অপসারণ এবং বর্ষাকালে ভারতের হঠাৎ পানি ছেড়ে দিয়ে এ অঞ্চলে বন্যা সৃষ্টির স্থায়ী সমাধান।

বিএনপি : খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা ঘিরে সংগঠনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। এই আসনে নব্বইয়ের দশক থেকে পাঁচবার বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। পরবর্তী তিন বিতর্কিত নির্বাচনের মধ্যে দু’টিতে জাসদ নেতা শিরীন আখতার নৌকা প্রতীক নিয়ে জয় পান।

এবারে বিএনপি সমন্বয়ক রফিকুল আলম মজনু, নুর আহম্মদ মজুমদারসহ কয়েকজন মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকলেও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে খালেদা জিয়াকে প্রার্থী ঘোষণা হলে মাঠে নতুন গতি আসে। এরপর থেকে ধানের শীষের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণায় নেমেছে বিএনপি, যুবদল ও শ্রমিকদলের নেতাকর্মীরা। প্রচারণায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন রফিকুল আলম মজনু। তার সাথে রয়েছেন নুর আহম্মদ মজুমদার, কেন্দ্রীয় নেতা বেলাল আহম্মদ, জালাল উদ্দিন মজুমদার, পরশুরামের আবু তালেব, আবদুল হালিম ও যুবদল ও শ্রমিকদলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

জামায়াত : ‘ইতিবাচক ভূমিকার’ স্লোগানে মাঠে সংগঠিত প্রচারণা চালাচ্ছে জামায়াত। জুলাই বিপ্লবের পর ফেনী-১ এ জামায়াতের রাজনীতিতে নতুন গতি পায়। অস্থির সময়ে সংখ্যালঘুদের বাড়ি-মন্দির পাহারা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ‘ইতিবাচক ভূমিকা’ তুলে ধরে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে দলটি।

কেন্দ্রীয় শূূরা সদস্য ও আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিনকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে একক প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। তার নেতৃত্বে জামায়াত-শিবির, ছাত্রী সংস্থা ও মহিলা সংগঠনের নেতাকর্মীরা পাড়া-মহল্লায় বৈঠক, সামাজিক সহায়তা কার্যক্রম, মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করে ভোটার টানার চেষ্টা করছে। তাদের প্রচারণায় বলা হচ্ছে- ক্ষমতায় গেলে ভারত-বাংলাদেশের স্বার্থ সমুন্নত রেখে সীমান্ত সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান করবে জামায়াত।

জেলা আমির মুফতি আবদুর হান্নানের নেতৃত্বে অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, মুজিবুর রহমান, আজাদ হোসাইন, অধ্যক্ষ পেয়ার আহম্মদ মজুমদার, মির্জা আবদুল হান্নানসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ মাঠে আছেন।

ইসলামী আন্দোলনের শোভাযাত্রা : তফসিলের আগেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গত সপ্তাহে প্রার্থী কাজী গোলাম কিবরিয়ার পক্ষে শক্তিশালী মোটর শোভাযাত্রা করেছে, যা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ফেনী-১ আসনে নির্বাচন ঘিরে এখন পুরো মাঠে মূল প্রতিযোগিতা বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। প্রচারণার কেন্দ্রে রয়েছে একই ইস্যু, ভারতের পানি আগ্রাসন ও সীমান্তজনিত ভোগান্তির স্থায়ী সমাধান