নানা অপকর্মে জড়িত কব্জি কাটা আনোয়ার গ্রুপ

কিশোর গ্যাং লিডার কবিরসহ আটক ৩, দেশীয় অস্ত্র জব্দ

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় নানা অপকর্মে কিশোর গ্যাং ‘কব্জি কাটা আনোয়ার গ্রুপ’ সক্রিয় বলে জানিয়েছে র‌্যাব। এই গ্রুপের অন্যতম সহকারী ও কিশোর গ্যাং লিডার কবিরসহ তিনজনকে আটক করেছে তারা। আটক অন্যরা হলেন- আব্দুর রহমান ও মো: বিল্লাল হোসেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত তিনটি চাপাতি জব্দ করা হয়। র‌্যাব জানিয়েছে, আটকদের বিরুদ্ধে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় ছিনতাই, ডাকাতি ও মাদককারবারিসহ নানা অপরাধকাণ্ডে একাধিক মামলা রয়েছে।

র‌্যাব-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান জানিয়েছেন, মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় চুরি, ছিনতাই, মাদকসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধে এই গ্রুপটি সক্রিয়।

রোববার মধ্যরাতে শ্যামলী হাউজিংয়ের ৪ নম্বর রোড থেকে কবির ও তার সহযোগী আব্দুর রহমানকে দু’টি চাপাতিসহ আটক করা হয়। পরে কাওরানবাজার থেকে একাধিক মাদক ও ছিনতাই মামলার আসামি বিল্লাল হোসেনকে চাপাতিসহ আটক করা হয়।

র‌্যাব-২-এর মেজর এম মুবীন রহমান তাপস জানিয়েছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন কয়েকজন দুর্বৃত্ত ছিনতাইয়ের জন্য শ্যামলী হাউজিংয়ে অবস্থান করছে। এর ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চালালে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ছিনতাইকারীরা দৌড়ে পালানোর সময় দলের মূলহোতা কব্জি কাটা আনোয়ার গ্রুপের অন্যতম সদস্য, মাদককারবারি ও কিশোর গ্যাং লিডার কবির ও তার সহযোগী আব্দুর রহমানকে আটক করা হয়। একই দিনে র‌্যাবের অপর একটি আভিযানিক দল কাওরানবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে চাপাতিসহ বিল্লালকে আটক করে।

র‌্যাব জানায়, আটককৃতরা দীর্ঘদিন ধরে পরস্পর যোগসাজশে মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, ডাকাতি, চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে আসছিল। কবিরের বিরুদ্ধে ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদকের পাঁচটি এবং বিল্লালের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা রয়েছে। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যান্য সহযোগীদের আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে শনিবার কিশোর গ্যাং ‘পাটালি গ্রুপ’ গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড শামীম পাটালিসহ আটজনকে আটক করে র‌্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশী পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড তাজা গুলি এবং বেশ কয়েকটি দেশীয় ধারালো তাক করা হয়। র‌্যাবের দাবি, শামীম পাটালিসহ পাটালি পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক ও অন্যান্য অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে। পরিবারের আরো দুই সদস্য রানা পাটালি ও রাসেল পাটালি হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছে। মোহাম্মদপুরে একই পরিবারের সাত সদস্যকে কুপিয়ে আহত করার আলোচিত ঘটনাতেও এই গ্রুপের সদস্যরা অভিযুক্ত বলে।