রংপুরের চাঞ্চল্যকর ৪ খুন

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির সুপারভিশনে তদন্ত চান আইনজীবী ঐক্য পরিষদ

Printed Edition

রংপুর ব্যুরো

রংপুরের চাঞ্চল্যকর চার খুনের ঘটনায় যেন জজ মিয়া নাটক মঞ্চস্থ না হয়, সেজন্য সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতির সুপারভিশনে পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা চান বাংলাদেশ আইনজীবী ঐক্য পরিষদ। এ সময় ঘরের ভেতরে যেতে পুলিশের বাধার অভিযোগও করা হয়।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে রংপুর মহানগরীর মাছুয়াপাড়ায় হত্যার শিকার গনপতি চক্রবর্তীর বাড়ি পরিদর্শন শেষে ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন সংগঠনের নেতারা। এর আগে ১৬ সদস্যের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীর একটি দল সেখানে যান। কিন্তু পুলিশের পারমিশন না থাকায় ঘরের ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি তারা। ভবনটির নিচতলাসহ আশপাশের পরিদর্শন করেন তারা। পরে থপুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রশিদের সাথে তার অফিসে সাক্ষাৎ করেন আইনজীবী দল। তারা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন।

পরে গনপতির বাসার সামনে ব্রিফিং করেন তারা। সেখানে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের আইনবিষয়ক সম্পাদক অপূর্ব ভট্টাচার্য বলেন, ‘এ হত্যাকাণ্ডটি নিয়ে জনমনে একটা সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের পুলিশের তদন্ত নিয়ে একটা বিশ্বাস তারা নিজেরাই হারিয়েছেন।

অপূর্ব ভট্টাচার্য বলেন, এ বিষয়টা নিয়ে আমরা হাইকোর্টে গিয়েছি এজন্য যে, একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অথবা বিচারপতির, হাইকোর্টের বিচারপতির অধীনে তদন্তটা যাতে হয়। কারণ এ তদন্তের ওপর যাতে পুলিশের একটা মনগড়া ‘জজ মিয়া’ নাটক আর না ঘটে।

ঘরের ভেতর প্রবেশের অনুমতি না দেয়ায় ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ আইনজীবী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অনুপ সাহা বলেন, ‘আমরা এ বাড়িতে একটু দেখতে চাচ্ছিলাম সার্বিক অবস্থাটা কী। পুলিশ কমিশনার যা করলেন সেটা হলো- প্রথমে রিকোয়েস্ট করা হলো আমরা ভেতরে যাব। উনি নাকি বললেন যে, শুধু রুপটফে আর গ্রাউন্ড ফ্লোরে দেখতে পারবেন, মাঝখানে যেটা ওনাদের বেডরুম, এটা দেখতে পারবে না। তখন আমি বললাম যদি অনুমতি দেন, আমাদের চারজন লোকই তো ওনার অফিসার। সেখানে কোন আলামত বা কোনো কিছু না, আমরা জাস্ট একটু দেখব। কারণ আমরা বাংলাদেশ আইনজীবী ঐক্য পরিষদের, এ আইন অনুসারী লোক আমরা। আমরা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী।

তিনি বলেন, ‘এ যে চারজন খুন হয়েছে, এটার ধারাবাহিকতায় আমরা সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে, মাননীয় হাইকোর্ট ডিভিশনে আমরা রিট ফাইল করেছি সুষ্ঠু তদন্ত এবং যারা তদন্ত করবেন, তাদের এ তদন্তটাকে সুপারভিশন করার জন্য জুডিশিয়াল অফিসার থেকে এটা যাতে তদন্ত করতে পারেন ঘটনাস্থল আমরা দেখতে পারি।

অনুপ সাহা বলেন, কিন্তু পুলিশ কমিশনার কী করলেন? সে সুযোগ আমাদের দেননি।

তিনি বলেন, পুলিশ কমিশনার জনগণের রক্ষক। এবং এ যে জনগণের রক্ষক, নিরাপত্তার স্বার্থে এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে, পাবলিক সার্ভেন্ট সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ওনার এ জিনিসটা করতে দিলে আমাদের বা আমার মনে হয় না যে কোনো প্রকার ব্যাঘাত ঘটত।

বাংলাদেশ আইনজীবী ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জয়া ভট্টাচার্য বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট থেকেই একদল আইনজীবী টিম এসেছি গনপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে। আমরা কোনো রাজনৈতিক দল, সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনো কিছু থেকে আসি নাই। কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নাই।

জয়া ভট্টাচার্য বলেন, যেহেতু আমাদের একটা রিট পিটিশন শুনানি হয়ে গেছে এবং সেটা পেন্ডিং রয়ে গেছে, স্ট্যান্ড ওভার হয়ে গেছে। বন্ধের পরে পরবর্তী শুনানির জন্য। আমরা শুধুমাত্র এখানে কিছু তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করার জন্য যাতে আমরা রিট পিটিশন শুনানির সময় কোর্টকে আমরা সাহায্য করতে পারি তথ্য-উপাত্ত দিয়ে। কিন্তু ভেতরে যেতে পারলাম না। আমরা উপরে ঘটনাস্থল যে জায়গাটা সেটা যেতে পারলাম না, যদিও আমরা বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে পেরেছি। এটা দুঃখজনক।

জয়া বলেন, ‘আপনারা সাংবাদিকরা, আপনারা তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করবেন। এ মামলাটার, যাতে সুষ্ঠু বিচার হয়।

রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রশিদ বলেন, ‘ঘটনাস্থলের আলামতের ক্রাইম সিকিউরিটির কারণেই সেখানে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান। পেশাদারিত্বের সাথে সব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে। সব উত্তরের মাধ্যমেই বৈজ্ঞানিক প্রমাণসাপেক্ষেই চার্জশিট দেয়া হচ্ছে।

গত ২১ আগস্ট ভোরে রংপুর মহানগরীর মাছুয়াপাড়ার তালাবদ্ধ নিজ বাড়িতে খুন হন রংপুর জিলা স্কুলের গনপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বোলা, কন্যা কারমাইকেল কলেজ থেকে ইংরেজিতে সদ্য মাস্টার্স করা আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী, পুত্র জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম। ২২ আগস্ট রাত ১১টা থেকে ২৩ আগস্ট ভোর রাত ৫টা পর্যন্ত তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাস এবং মুগ্ধ দাস নামে দুইজনকে ২৩ আগস্ট ভোরেই গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা সেদিন রাতেই রংপুর মহানগর ম্যাজিস্ট্র্রেট আদালত-২ এর বিচার রফিকুল ইসলামের কাছে খুনের কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয়।

গত ১০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে মামলাটির তদন্ত কাজ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির সুপারভিশনে করার জন্য রিট পিটিশনের শুনানি হয়। সেটি পেন্ডিং করে পূর্ণাঙ্গ শুনানির জন্য আদেশ দেয় হাইকোর্ট।