- জামায়াত আমিরের সাথে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ
- ইইউ প্রায় ২০০ পর্যবেক্ষক পাঠাবে : ডা: শফিকুর
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতার চূড়ান্ত ঘোষণা আজ আসতে পারে। আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ ঘোষণা দেয়ার প্রস্তুতি চলছে। জোটের অন্যতম প্রধান দল জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমানও গতকাল সাংবাদিকদের জানান, আজ অথবা আগামীকালের মধ্যেই আসন সমঝোতার চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়া হবে।
দীর্ঘদিন ধরেই ১১ দলীয় জোটের মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা ও দরকষাকষি চলছিল। একাধিক দলে একই আসনে প্রভাবশালী প্রার্থী থাকায় কয়েকটি আসন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়, ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হয়। তবে সর্বশেষ বোঝাপড়ার মাধ্যমে বিষয়টি প্রায় নিষ্পত্তির পথে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব যোবায়ের নয়া দিগন্তকে জানান, বিভিন্ন দলের মধ্যে সর্বশেষ সমন্বয় চলছে। লিয়াজোঁ কমিটি সোমবার রাতেই একটি চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করে শীর্ষ নেতাদের কাছে দেবে। আজ মঙ্গলবার শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসে তা অনুমোদন করবেন এবং পরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হবে। কোনো কারণে লিয়াজোঁ কমিটির কাজ বিলম্বিত হলে একদিন পিছিয়েও যেতে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ইভারস আইজাবসের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধিদলের সাথে বৈঠক শেষে ডা: শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আজ অথবা আগামীকালের মধ্যেই সবাই একসাথে সংবাদ সম্মেলনে আসবেন। নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানি চলমান থাকা এবং ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ ও প্রচার শুরু হলেও জোটের বিষয়টি তখনো চূড়ান্ত না হওয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে জামায়াতে ইসলামী ২০০টির মতো আসন পেতে পারে। ইসলামী আন্দোলন ৪০ থেকে ৪৫টি, এনসিপি ২৫-২৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১৫-১৬টি এবং খেলাফত মজলিস ৭-৮টি আসন পেতে পারে। বাকি আসন এলডিপি, খেলাফত আন্দোলন, এবিপার্টি, জাগপা, নেজামে ইসলাম পার্টি ও বিডিপির মধ্যে ভাগ হবে।
ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশনের সাথে বৈঠক প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, গত নির্বাচনে কোনো প্রতিনিধি না পাঠালেও এবার ইইউ প্রায় ২০০ পর্যবেক্ষক পাঠাবে, যারা জেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন। তারা নির্বাচনের পর খোলা মনে আলোচনায় বসতে চান, তবে তিনি জানান, এ ক্ষেত্রে কিছু শর্ত থাকবে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, তারা বদলাবে, না হলে বদলাতে বাধ্য করা হবে।
জামায়াত জানায়, বৈঠকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা এবং বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. যুবায়ের আহমেদ, উন্নয়ন টিম লিড দেওয়ান আলমগীর এবং জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান।
এ দিকে গতকাল সকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জামায়াত আমিরের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক, উন্নয়ন সহযোগিতা, বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক বিনিময় নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে সম্পর্ক আরো দৃঢ় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সময় চীনা রাষ্ট্রদূতের সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন- ডেপুটি চিফ অব মিশন (ডিসিএম) ড. লিউ ইউইন, পলিটিক্যাল ডিরেক্টর ঝাং জিং, রু কি (রাকি) এবং নাফিসা (লিয়াং শুইন)।



