দখল ও নাব্যতা সঙ্কটে হারিয়ে যাচ্ছে টরকী-বাশাইল খাল

Printed Edition
দখল দুষণে হারিয়ে যাচ্ছে টরকী-বাশাইল খাল : নয়া দিগন্ত
দখল দুষণে হারিয়ে যাচ্ছে টরকী-বাশাইল খাল : নয়া দিগন্ত

জহুরুল ইসলাম জহির গৌরনদী (বরিশাল)

বরিশালের গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলার হাজারো কৃষকের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ঐতিহ্যবাহী টরকী-বাশাইল খাল আজ অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে। দীর্ঘদিন খনন না হওয়া, নাব্যতা হ্রাস, অবৈধ দখল ও দূষণের কারণে এক সময়কার খরস্রোতা এই খাল এখন মৃতপ্রায়। এর প্রভাব পড়ছে কৃষি উৎপাদন, মৎস্যসম্পদ, পরিবেশ ও জনজীবনে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গৌরনদী উপজেলার টরকী বন্দরের পালরদী নদীসংলগ্ন এলাকা থেকে শুরু হয়ে ধানডোবা, রাজাপুর, সাদ্দাম বাজার, মোক্তার বাজার ও চেঙ্গুটিয়া গ্রাম অতিক্রম করে খালটি আগৈলঝাড়ার বাশাইল বাজারের প্রধান খালের সাথে মিলিত হয়েছে। স্থানীয়ভাবে এটি টরকী-বাশাইল খাল নামে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে এ খালের পানির ওপর নির্ভর করে কৃষিকাজ করে আসছেন হাজারো কৃষক।

ক্লাইমেট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের আগৈলঝাড়া শাখার পরিবেশকর্মী সৈয়দ মাজারুল ইসলাম রুবেল বলেন, খাল ও নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় পালরদী নদী থেকে খালে পানি প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে বাঁধ নির্মাণ, অপরিকল্পিত সেতু, খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণ এবং ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কৃষিজমি, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশে।

স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানান, একসময় টরকী-বাশাইল খাল ছিল এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। কিন্তু সংস্কারের অভাবে খালটি ক্রমেই নাব্যতা হারিয়ে ফেলছে। শুষ্ক মৌসুমে খাল প্রায় শুকিয়ে যায়। ফলে বোরো মৌসুমে ২০ হাজার হেক্টরেরও বেশি পরিমাণ জমিতে সেচ দিতে কৃষকদের অতিরিক্ত ব্যয় করতে হচ্ছে। পালরদী নদী থেকে পাম্পের মাধ্যমে পানি তুলে খালে সরবরাহ করা হয়। এতে সেচের পানি কয়েক ধাপ মধ্যস্বত্বভোগীর হাত ঘুরে কৃষকদের কাছে পৌঁছায়, ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায় তাদের।

কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি ২০ শতক জমিতে সেচের জন্য তিন শতক জমির সমপরিমাণ ধান দিতে হয়। উৎপাদন ব্যয় বাড়ায় অনেকেই ধান চাষ ছেড়ে পান চাষ কিংবা মাছের ঘের করছেন। এতে প্রতি বছর অনাবাদি জমির পরিমাণ বাড়ছে।

স্থানীয় জেলেরা জানান, এক সময় এ খালে শতাধিক প্রজাতির দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। বর্তমানে খালটি প্রায় স্রোতহীন হয়ে পড়ায় মাছের প্রজনন ও আবাসস্থল নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি স্থির পানিতে মশা ও বিভিন্ন রোগজীবাণুর বিস্তারও বাড়ছে।

সাবেক ইউপি সদস্য ছাদের আলী সরদার বলেন, খালটি একসময় এতটাই গভীর ও স্রোতস্বিনী ছিল যে সাঁতরে পার হওয়া কঠিন ছিল। এখন পানির অভাবে হেঁটে খাল পার হওয়া যায়। পানির অভাবে কৃষকরা ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। বহুবার সংশ্লিষ্ট দফতরে আবেদন করেও খাল খননের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসক মো: খায়রুল আলম সুমন বলেন, নদী ও খালের নাব্যতা কমে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ এবং জনগুরুত্বপূর্ণ খালগুলো পুনঃখননের জন্য দ্রুত উদ্যোগ নেয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা হয়েছে।