ভালো স্কুলে ভর্তির প্রতিযোগিতার যেন শেষ নেই। সন্তানকে সরকারি স্কুলে ভর্তি করাতেও যেন অভিভাবকের গলদঘর্ম অবস্থা। কিন্তু প্রতিবছরই দেখা যায় ভর্তির মওসুম শেষ হওয়ার পর অনেক স্কুলের আসনই ফাঁকা থাকে। এ বছরও একই চিত্র ফুটে উঠেছে। সর্বশেষ তথ্য বলছে দেশের সরকারি ও বেসরকারি স্কুলগুলোতে কেন্দ্রীয় লটারি ও ভর্তি প্রক্রিয়া শেষে এখনো প্রায় ৮ লাখ আসন এখনো ফাঁকা রয়েছে। অন্য দিকে আবেদন করার পরও কাক্সিক্ষত স্কুলে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে অসংখ্য শিক্ষার্থী এখনো কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারেনি। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) বলছে, যেসব স্কুলে আসন ফাঁকা সেখানে চাইলেই শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারবে। শূন্য আসন পূরণে নির্দেশনা রয়েছে দফতরের।
মাউশি সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশের সরকারি স্কুলগুলোতে মোট এক লাখ ২১ হাজার ৫৯৬টি আসনের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছিল সাত লাখ ১৯ হাজার ৮৫৮টি। এর মধ্যে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে এক লাখ সাত হাজার ৫২১ জন শিক্ষার্থী এবং বর্তমানে আসন খালি আছে ১৪ হাজার ৭৫টি। বেসরকারি স্কুলে ১০ লাখ ৭২ হাজার ৯১৭টি আসনের বিপরীতে ভর্তির আবেদন করেছিল তিন লাখ ৩৬ হাজার ১৯৬ জন শিক্ষার্থী। ভর্তির সুযোগ পেয়েছে এক লাখ ৯৭ হাজার ৯৭৮ জন। এ অবস্থায় সাড়ে আট লাখের মতো আসন ফাঁকা থাকলেও অসংখ্য শিক্ষার্থী এখনো কোনো স্কুলে ভর্তি হতে পারেনি। ঢাকার এক অভিভাবক এই প্রতিবেদককে জানান, লটারির মাধ্যমে ভর্তি হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত কোথাও সুযোগ মেলেনি। একাধিক স্কুলে আবেদন করেও সন্তানের জন্য ভালো ও মানসম্মত কোনো স্কুল পাওয়া যাচ্ছে না। এটি আমাদের জন্য খুবই হতাশার বিষয়।
যদিও এ বিষয়ে শিক্ষা গবেষকরা বলছেন, আমাদের দেশের প্রত্যেক অভিভাবকই চান নামি স্কুলে সন্তানকে ভর্তি করাতে। এর ফলে বেশির ভাগ স্কুলের আসনই ফাঁকা থাকছে। আবার অনেক শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারছে না। তবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল নয়া দিগন্তকে জানান, কেন্দ্রীয় ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর স্কুলগুলোতে যেসব আসন এখনো শূন্য রয়েছে সেগুলো পূরণের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) অনুমতি সাপেক্ষে স্থানীয়ভাবে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে পারবে। এই প্রক্রিয়া চলাকালে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অধিদফতরের প্রতিনিধি, জেলা প্রশাসকের (ডিসি) প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন। তিনি বলেন, এই ভর্তি প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে মূলত স্কুল কর্তৃপক্ষ বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিজে। কেন্দ্রীয়ভাবে নির্ধারিত ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর অবশিষ্ট শূন্য আসন পূরণের এই বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, শূন্য আসনে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রথমত যারা আগে থেকেই ‘ওয়েটিং লিস্টে’ বা অপেক্ষমাণ তালিকায় আছেন, প্রতিষ্ঠান চাইলে তাদের মধ্য থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে পারবে। তবে যদি অপেক্ষমাণ তালিকায় কোনো শিক্ষার্থী না থাকে এবং নতুন কোনো শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য আবেদন করে, সেক্ষেত্রে অবশ্যই ফের লটারির মাধ্যমে মেধা যাচাই করে তাকে ভর্তি করাতে হবে। লটারি ছাড়া সরাসরি ভর্তির কোনো সুযোগ নেই।



