আট উইকেটে হার দিয়ে সিরিজ শুরুর পর দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১২৮ রানের জয় পেয়েছে পাকিস্তান। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃষ্টি বিঘিœত ডিএল ম্যাথডের ম্যাচে সফরকারীদের করা ২৭৪ রানের জবাবে ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। প্রথম দুই ম্যাচ শেষে ১-১ সমতা থাকায় আজ শেষ ওয়ানডে রূপ নিয়েছে অলিখিত ফাইনালে। মিরপুর শেরেবাংলায় বেলা ২.১৫ মিনিটে মুখোমুখি হবে দল দু’টি। স্বাগতিক বাংলাদেশ ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখছে, অন্য দিকে সমান আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে পাকিস্তান।
পরিসংখ্যান বলছে, ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে সাম্প্রতিক সময়টা বেশ সুখকর বাংলাদেশের জন্য। সর্বশেষ দুইটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজেই জয় (২-০ ও ২-১) পেয়েছে টাইগাররা। ফলে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচেও আত্মবিশ্বাসী স্বাগতিকরা। অন্য দিকে পাকিস্তানও সমতা ফেরানোর পর নতুন উদ্যমে শেষ ম্যাচে ঝাঁপিয়ে পড়তে প্রস্তুত।
সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি ছিল উত্তেজনায় ভরপুর। সেই ম্যাচে একটি বিতর্কিত মুহূর্ত তৈরি হয় যখন বাংলাদেশের অধিনায়ক মিরাজ রান আউট করেন পাকিস্তানের ব্যাটার সালমান আলী আগাকে। ঘটনাটি পাকিস্তান শিবির ভালোভাবে নেয়নি, যা ম্যাচের পর কিছুটা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। ফলে শেষ ম্যাচের আগে দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরো তীব্র হয়ে উঠেছে।
হেড-টু-হেড পরিসংখ্যানে অবশ্য এখনো এগিয়ে পাকিস্তান। ওয়ানডেতে দুই দলের দেখা হয়েছে ৩৫ বারের বেশি, যেখানে পাকিস্তানের জয় প্রায় ৩০টির মতো, আর বাংলাদেশের জয় সীমিত কয়েকটিতে। তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে ব্যবধান অনেকটাই কমিয়েছে টাইগাররা। সব মিলিয়ে সিরিজের শেষ ম্যাচটি হতে যাচ্ছে স্নায়ুচাপের লড়াই। ব্যাট-বলের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মানসিক দৃঢ়তাও বড় ভূমিকা রাখবে। শেষ পর্যন্ত কে হাসবে শেষ হাসি, অপেক্ষা করতে হবে আজ রাত পর্যন্ত।
অলিখিত ফাইনালের আগে কাঁধের চোটের কারণে ছিটকে গেছেন পাকিস্তানের অলরাউন্ডার হুসেইন তালাত। দ্বিতীয় ম্যাচ চলাকালীন ফিল্ডিংয়ের সময় চোট পান তিনি। বাংলাদেশের ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে লিটন দাস অফসাইড দিয়ে মোহাম্মদ ওয়াসিমের বল পাঞ্চ করলে বল থামানোর জন্য বাউন্ডারির দিকে দৌড়ে যান তালাত। বাউন্ডারির কাছে পৌঁছে বল ফেরানোর চেষ্টা করলেও সফল হননি; বল স্পর্শ করার সময় বাউন্ডারি লাইনের ফোমে তার পা পড়ে। ভারসাম্য হারিয়ে তিনি বিজ্ঞাপন বোর্ডে ধাক্কা খান। তাতে তার বাঁ কাঁধে জোরে আঘাত লাগে। পিসিবি জানিয়েছে, কাঁধের এই চোট থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে ১২ থেকে ১৪ সপ্তাহ সময় লাগবে তালাতের। এই চোটের কারণে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ওয়ানডের পাশাপাশি পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) পরবর্তী পর্ব থেকেও ছিটকে গেছেন তালাত।
অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি মূলত কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করেন। ‘টসটা জরুরি। দু’টি ম্যাচে একটাও টস জিতিনি। অবশ্য প্রফেশনালদের সবদিকে অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। তৃতীয় ম্যাচে টস জিতলে টার্গেট নিতে চাই। আরো একটা বিষয়ে অবাক হয়েছি। মিরাজ যেভাবে সালমানকে রান আউট করেছে, সেটিতে অভ্যস্থ ছিলাম না। সালমান কিন্তু নুইয়েছে বলটি তুলে মিরাজকে দেয়ার জন্য। তবে আমি বলছি না যে, আউট হয়নি। আউট হয়েছে সেটি শতভাগ সত্য এবং নিয়ম মেনে হয়েছে তবে ধাক্কা খেয়েছি।’
সিরিজের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে মাত্র ১১৪ রানে গুটিয়ে দিয়ে আট উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় স্বাগতিক বাংলাদেশ। বাংলাদেশের জয়ের নায়ক পেসার নাহিদ রানা। সাত ওভার বল করে ২৪ রানে পাঁচ উইকেট নেন। প্রথম ম্যাচে শোচনীয় হারের পর দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় পাকিস্তান। প্রথমে ব্যাট করে সব উইকেট হারিয়ে ২৭৪ রান করে সফরকারীরা। ৪৬ বলে ৭৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে পাকিস্তানের লড়াকু সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন ওপেনার মাজ সাদাকাত।
২৭৫ রানের লক্ষ্য স্পর্শ করতে নেমে ৬.৩ ওভারে ২৭ রান তুলতেই তিন উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর বৃষ্টির কারণে দুই ঘণ্টা খেলা বন্ধ থাকায় বৃষ্টি আইনে ৩২ ওভারে ২৪৩ রানের নতুন টার্গেট পায় টাইগাররা। নতুন লক্ষ্যে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ২৩.৩ ওভারে ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। বৃষ্টি আইনে ১২৮ রানে ম্যাচ হারে মিরাজ বাহিনী।
তৃতীয় ম্যাচেও বাংলাদেশের ব্যাটাররা ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দী থাকলে সিরিজ হারের লজ্জা পেতে হবে টাইগারদের। দ্বিতীয় ম্যাচের ভুল শুধরে তৃতীয় ওয়ানডেতে ভালো পারফরমেন্স করতে চান বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। ‘আমরা প্রথম ১০ ওভারে ভালো করতে পারিনি। যা আমরা প্রথম ম্যাচে করেছিলাম। ব্যাট করার জন্য এটি খুব ভালো উইকেট ছিল। কিন্তু আমাদের টপ-অর্ডার ব্যাটাররা খুব বেশি রান পায়নি। ব্যাটিং-বোলিংয়ে উন্নতি করতে হবে এবং আরো দায়িত্ব নিতে হবে। আশা করি, খেলোয়াড়রা সেরাটা উজাড় করে দেবে।’



