বিশেষ সংবাদদাতা
বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) কমানোর জন্য বহুজাতিক তামাক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে যে প্রস্তাব দিয়েছে, তা অনুমোদন করা হলে সরকার দুই হাজার ২০০ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব হারাতে পারে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি)। গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, বিএটিবির প্রস্তাব অনুমোদন করা হলে তা তামাক করনীতির েেত্র একটি ‘বিপজ্জনক নজির’ তৈরি করবে। এতে তামাক কোম্পানি বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হলেও সরকারের রাজস্ব আয় ও জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে বিএনটিটিপি।
বিএনটিটিপির বিবৃতি অনুযায়ী, বিএটিবি তাদের ডারবি, পাইলট ও হলিউড ব্র্যান্ডের প্রতি প্যাকেট সিগারেটের দাম ৭২ টাকা থেকে কমিয়ে ৬৩ টাকা এবং লাকি স্ট্রাইক ব্র্যান্ডের দাম ১০৮ টাকা থেকে কমিয়ে ৯২ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে। এ জন্য মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা, ২০১৬-এর বিধি ১১৮(ক) এবং সাধারণ আদেশ নং ০২/ভ্যাট/ ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারা সংশোধন বা ব্যাখ্যার মাধ্যমে অনুমোদিত সীমার মধ্যে প্রস্তুতকারকদের মূল্য নির্ধারণের স্বাধীনতা দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবটি অনুমোদন করা হলে নিম্নস্তরের প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে সরকারের রাজস্ব কমবে প্রায় ৭ টাকা ৪৭ পয়সা। আর মধ্যম স্তরের প্রতি প্যাকেটে রাজস্ব কমবে প্রায় ১৩ টাকা ২৮ পয়সা। বিএনটিটিপি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোর ব্র্যান্ডভিত্তিক বিক্রির তথ্যানুযায়ী ডারবি, পাইলট ও হলিউডের সম্ভাব্য বিক্রির পরিমাণ প্রায় দুই হাজার ৬০০ কোটি শলাকা। অন্য দিকে লাকি স্ট্রাইকের বিক্রির পরিমাণ প্রায় ১৮০ কোটি শলাকা। এসব সিগারেটের দাম কমানোর সুযোগ দেয়া হলে নিম্ন স্তরে প্রায় এক হাজার ৯৭২ কোটি টাকা এবং মধ্যম স্তরে প্রায় ২৩৯ কোটি টাকাÑ মোট দুই হাজার ২১১ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব হারাতে পারে সরকার।
বিএটিবির প্রস্তাবের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বিএনটিটিপি বলেছে, গত ৭ জুন ২০২৬ জারি করা এসআরও নং ১২৯-আইন/২০২৬/৩৩৪-এর ৩ নম্বর ধারায় বাজারে ইতোমধ্যে প্রচলিত কোনো সিগারেট ব্র্যান্ডের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য কমানোর সুযোগ নেই।
বিএনটিটিপির দাবি, দাম কমালে বিক্রি বাড়বে এবং এর ফলে সরকারের রাজস্বও বাড়বে, বিএটিবির এমন পূর্বাভাসের পে নিশ্চিত কোনো প্রমাণ নেই। বাড়তি বিক্রির পুরোটাই অবৈধ বাজার থেকে বৈধ বাজারে স্থানান্তরিত হবেÑ এমন নিশ্চয়তাও নেই।



