রুহুল আমিন সৌরভ কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)
জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় থমকে গেছে ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক ছয়লেন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ। ধীরগতির কারণে গত কয়েক বছরে প্রকল্পের দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৪ থেকে ৫ শতাংশ। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী লাখো মানুষ প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সড়কটি প্রকল্পের আওতায় যাওয়ার পর থেকে নিয়মিত মেরামত কাজও বন্ধ হয়ে গেছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। ধুলোবালি আর ভাঙাচোরা অবস্থায় যান চলাচল হয়ে পড়েছে ধীরগতির ও ঝুঁঁকিপূর্ণ। প্রতিদিন যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তি এখন চরম আকার ধারণ করেছে। অথচ ২০২০ সালের ২৪ নভেম্বর একনেক সভায় ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডোর (উইকেয়ার) ফেজ-১-এর আওতায় এ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতরের বাস্তবায়নে নির্মাণাধীন এ প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা; কিন্তু কাজের বর্তমান চিত্র বলছে ভিন্ন কথা।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু হলেও এখনো মূলসড়ক উন্নয়নের ছোঁয়াই লাগেনি। ঝিনাইদহ শহরের বাইপাস চুটলিয়া মোড় এলাকায় ফ্লাইওভারের সামান্য কাজ হয়েছে। এ ছাড়া ধোপাঘাটা সেতুর জন্য গার্ডার নির্মাণ এবং কয়েকটি কালভার্টের আংশিক কাজ শেষ হয়েছে। তবে মূলসড়কের প্রশস্তকরণ বা আধুনিকায়নের কোনো অগ্রগতি নেই।
কালীগঞ্জ থেকে নিয়মিত যাতায়াতকারী সরকারি কর্মচারী মাজেদা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বাস বা ইজিবাইকে চলাচল করা এখন যন্ত্রণার। সারা রাস্তা ভাঙা। আমাদের বড় ছয়লেনের দরকার নেই, আগের দুইলেন সড়কই ভালো ছিল। ঝিনাইদহ উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি আশরাফুল আলম অভিযোগ করেন, ‘ছয়লেনে উন্নীতকরণের পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া খুবই হতাশাজনক। গত কয়েক বছরে কাজ হয়েছে নামমাত্র।’
কাজের ধীরগতির বিষয়ে উইকেয়ার ফেজ-১ এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নিলন আলী জানান, জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় নির্ধারিত জায়গায় কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। যেসব স্থানে জমি বুঝে পাওয়া গেছে, সেখানেই কেবল আংশিক কাজ চলছে। জমি হস্তান্তর পেলে দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে নেয়া সম্ভব হবে।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বলেন, ‘প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ চলমান। কিছু আইনি ও কারিগরি জটিলতা থাকলেও সেগুলো দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যেই জমি হস্তান্তর সম্পন্ন হবে এবং প্রকল্পের কাজ পুরোদমে শুরু করা যাবে।



