নিজস্ব প্রতিবেদক
ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
কমিশনের বৈঠকে তাদের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে গতকাল বুধবার দুদক মহাপরিচালক মো: আখতার হোসেন সাংবাদিকদের জানান। শিগগিরই মামলা দায়ের করা হবে বলে জানান তিনি।
তিনি জানান, মামলায় আকবর সোবহানের দুই ছেলে সাদাত সোবহান ও সাফিয়াত সোবহান, ন্যাশনাল ব্যাংকের বেশ কয়েকজন পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের নাম আছে।
তাদের মধ্যে আছেন- ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালক মনোয়ারা শিকদার, পারভীন হক শিকদার, মোয়াজ্জেম হোসেন, রিক হক শিকদার, রন হক শিকদার, আনোয়ার হোসেন এবং এ কে এম এনামুল হক শামীম।
তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পরস্পর যোগসাজশে ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসির নিয়ম-কানুন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে বসুন্ধরা ইম্পোর্ট এক্সপোর্ট লিমিটেডের নামে মোট এক হাজার ৩৫০ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ করেন। পর্যাপ্ত জামানত, স্টক রিপোর্ট, পরিদর্শন প্রতিবেদন, ক্রেডিট রেটিং ও গ্রাহকের প্রকৃত ঋণ পরিশোধ সক্ষমতার যাচাই ছাড়াই ভুয়া আর্থিক বিবরণীর ভিত্তিতে এ ঋণ দেয়া হয়। একই সাথে গ্রাহকের ওপর অন্যান্য ব্যাংকে থাকা ৬২৯.১৬ কোটি টাকার দায়-দেনার বিষয়টিও ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করা হয়। বসুন্ধরা গ্রুপভুক্ত প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও গ্রাহককে আলাদা গ্রুপ দেখিয়ে একক ঋণগ্রহীতা ঋণসীমা অতিক্রম করে ঋণ অনুমোদনের মাধ্যমেও ব্যাংক কোম্পানি আইন ও অভ্যন্তরীণ নীতিমালা লঙ্ঘন করা হয়।
তদন্তে আরো উঠে এসেছে, ফান্ডেড ঋণের ৬০০ কোটি টাকা বৈধ উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করে আসামিরা তা বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্থানান্তর ও নগদ উত্তোলনের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেন এবং অর্থের উৎস ও মালিকানা গোপন করতে মানিলন্ডারিং কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন। অপর্যাপ্ত জামানত ও ভুয়া আর্থিক বিবরণীর ভিত্তিতে বড় ঋণ অনুমোদন করে ব্যাংকিং নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন আসামিরা।
দুদক সূত্র জানায়, অভিযুক্তরা দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন লঙ্ঘন করেছেন।



