বিদ্যুৎ বিভ্রাটে শার্শায় মাছের মড়ক, ক্ষতি ১৫ কোটি টাকা

Printed Edition

আব্দুল মান্নান শার্শা (যশোর)

যশোরের শার্শা উপজেলার সোনামুখো বিলে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অক্সিজেন সঙ্কট সৃষ্টি হওয়ায় প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকার মাছ মারা গেছে বলে দাবি করছেন খামার মালিকরা। গত শুক্রবার রাত ১টার দিকে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রায়পুর-সোনামুখো বিলের মফিজুর রহমান সজনের ঘেরে মাছের এ মড়ক শুরু হয়। শনিবার সকালেই বিপুল পরিমাণ পাবদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে পানিতে ভেসে ওঠে।

খামার মালিকদের অভিযোগ, দিন-রাতের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘন ঘন ও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঘেরে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। এর সাথে বৈরী আবহাওয়া যোগ হয়ে পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা দ্রুত কমে যায়। ফলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিপুল পরিমাণ মাছ মারা যায়।

সোনামুখো বিলের এ ঘেরটির মালিক এএফ মৎস্য খামার। যৌথভাবে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছেন আলফাজুল হক ও ফারুক হোসেন। খামার মালিকদের হিসেবে, ২০০ বিঘা ঘেরে ৬০ লাখ পাবদা মাছ চাষ করা হয়েছিল। প্রতি ১৫টি পাবদা মাছে প্রায় এক কেজি হিসেবে মোট উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১০ হাজার মণ। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ মাছের দাম প্রায় ১৫ হাজার টাকা। সে হিসাবে মরে যাওয়া মাছের বাজারমূল্য দাঁড়ায় ১৫ কোটি টাকা ৫০ লাখ টাকা।

খামার মালিক আলফাজুল হক বলেন, ঘেরে বিপুল পরিমাণ পাবদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ছিল। এর বড় একটি অংশ বিক্রির উপযোগী হয়ে উঠেছিল। কিন্তু হঠাৎ দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা চলমান রাখা যায়নি। পরে বৈরী আবহাওয়ায় পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

তিনি বলেন, ‘মাছের খাদ্য বাবদ বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা বাকিতে মাছের খাদ্য নিয়েছি। সব মিলিয়ে আমাদের প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন এই ঋণ কিভাবে পরিশোধ করব, কিভাবে আবার ঘুরে দাঁড়াব, এ বিষয়ে আর কিছু চিন্তা করতে পারছি না।’

অপর একটি খামারের মালিক ফারুক হোসেন বলেন, ‘আমরা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছি। হয়তো আর ঘুরে দাঁড়াতে পারব না। এই খামারের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় একশ পরিবার নির্ভরশীল। রাত ১টার পর থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় অক্সিজেনের ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। সকাল হওয়ার আগেই বিপুল পরিমাণ পাবদা মাছ মারা যায় এবং পরে পচতে শুরু করে।’ সরেজমিন ঘের এলাকায় দেখা যায়, পানির ওপর অসংখ্য মৃত মাছ ভেসে রয়েছে। কোথাও কোথাও মাছ পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ ও পরিশ্রম এক রাতের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যাওয়ায় খামার মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে।

খামার সংশ্লিষ্টরা জানান, এ খামারে উৎপাদিত পাবদা মাছের একটি বিরাট অংশ রপ্তানি চেইনের মাধ্যমে ভারতে যায়। ফলে এ ধরনের মাছ চাষ শুধু স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণই করে না, দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও ভূমিকা রাখে। শার্শা উপজেলায় উৎপাদিত মাছ দেশের আমিষের চাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানান স্থানীয় মৎস্যচাষি ও উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর। বেনাপোল ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কর্মকর্তা সজীব সাহা বলেন, আমি মৎস্য ঘের পরিদর্শন করেছি। তিনটি ভেড়িতে প্রায় চার হাজার ২০০ মণ পাবদা জাতের মাছ মারা গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি।