লোকসানের আশঙ্কায়ও আগাম আলু চাষে ব্যস্ত কৃষকরা

আগাম আলু জলঢাকার একটি জনপ্রিয় ফসল। ফলন কিছুটা কম হলেও সময়মতো বিক্রি করতে পারলে কৃষকরা ভালো দাম পান। এখন হিমাগারে প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন আলু মজুদ আছে, যা দামে প্রভাব ফেলতে পারে।

Printed Edition
জলঢাকায় একটি আলু ক্ষেত পরিচর্যা করছেন কৃষকরা
জলঢাকায় একটি আলু ক্ষেত পরিচর্যা করছেন কৃষকরা |নয়া দিগন্ত

রমজান আলী জলঢাকা (নীলফামারী)

দামের অনিশ্চয়তা আর গত মৌসুমের লোকসানে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আবারো মাঠে ফিরেছেন নীলফামারীর জলঢাকার কৃষকরা। কেউ নতুন জাতের বীজে ভাগ্য বদলের আশায়, কেউ আগের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আবারো আগাম আলু চাষে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন তারা।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, কুয়াশাচ্ছন্ন সকালের আলো ফোটার আগেই কৃষকরা মাঠে ছুটছেন। জমি চাষ, মাটি প্রস্তুত, সেচ দেয়া, সব মিলিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তারা। আগাম আলুর চাষ যেন তাদের কাছে শুধু ফসল নয়, টিকে থাকার লড়াই।

গত মৌসুমে আলুর দাম আশানুরূপ ছিল না। প্রতি কেজি ১০-১২ টাকায় বিক্রি হওয়ায় অনেকেই লোকসান গুনেছেন। তবুও আশা ছাড়েননি চাষিরা। এবার নতুন করে আলু লাগিয়েছেন প্রায় ৪২০ হেক্টর জমিতে, বিশেষ করে উঁচু এলাকায় যেখানে পানি জমে না। চাষ হচ্ছে গ্রানুলা, সেভেনসহ উন্নত জাতের আলু। মীরগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, ‘গতবার লোকসান হলেও এবারে পাঁচ বিঘা জমিতে আবারো আলু লাগিয়েছি। আল্লাহ ভরসা, এবার হয়তো ভাগ্য খুলবে।’

অন্য দিকে খুটামারা ইউনিয়নের মাহাতাব আলী জানান, ‘হাইব্রিড ধান কাটার পরই আলু লাগিয়েছি। নভেম্বরের মাঝামাঝি ফসল তুলব আশা করছি, তবে পুরনো আলু মজুদ থাকায় দাম নিয়ে চিন্তায় আছি।’

উপজেলা কৃষি অফিসার মিজানুর রহমান বলেন, ‘আগাম আলু জলঢাকার একটি জনপ্রিয় ফসল। ফলন কিছুটা কম হলেও সময়মতো বিক্রি করতে পারলে কৃষকরা ভালো দাম পান। এখন হিমাগারে প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন আলু মজুদ আছে, যা দামে প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমানে বাজারে আলুর দাম প্রতি কেজি ১৫ থেকে ২০ টাকা। দাম নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও কৃষকরা হার মানছেন না।

কারণ, তাদের বিশ্বাস, মাটি কখনো প্রতারিত করে না, যদি ঘামের সাথে মিশে থাকে আশা ও শ্রমের বীজ।