নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকারি দলের নাম ভাঙিয়ে পতিত আওয়ামী লীগের দোসররা পুনরায় দখলে নিয়েছে রাজধানীর মালিবাগের ফরচুন শপিং মল ও অ্যাপার্টমেন্টের নিয়ন্ত্রণ। অভিযোগ উঠেছে তারা পুলিশকে ম্যানেজ করে মেয়েকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে আসা ব্যবসায়ীর পকেটে ইয়াবা দিয়ে গ্রেফতার করিয়েছে। বিষয়গুলো নিয়ে মার্কেটের দোকান ও অ্যাপার্টমেন্ট মালিকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বিচার দাবি করে দোকান ও অ্যাপার্টমেন্ট মালিকরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন দিচ্ছেন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান, ২০০৩ সালে বিএনপি সরকারের সময় ৪১, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়কে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ফরচুন শপিং মল ও ফরচুন অ্যাপার্টমেন্ট তৈরির কাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তন হলে বিভিন্ন পর্যায়ে ফ্ল্যাট বিক্রি করা হলেও ভবনের নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ থাকায় ক্রেতাদের অনেকে নিজ নিজ অর্থ ব্যয় করে কাজ সম্পন্ন করে ফ্ল্যাটে বসবাস শুরু করতে বাধ্য হন। ওই সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন নেতা-মন্ত্রীর আশীর্বাদ নিয়ে নাছির উদ্দিন দুলাল নামের একজন ফরচুন অ্যাপার্টমেন্ট ও সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির ওপর প্রভাব বিস্তার শুরু করে। তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে সম্পত্তি ও অর্থ আত্মসাৎ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করার অভিযোগও রয়েছে।
এক পর্যায়ে নিজের ও আত্মীয়দের নামে-বেনামে দোকান ফ্ল্যাট দখল করে মার্কেট ও অ্যাপার্টমেন্ট পরিচালনা পর্ষদ দখলে নিয়ে ব্যাপক লুটপাট শুরু করে। আওয়ামী লীগের ভয়ে কেউ তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দিতে পারেনি; কিন্তু ২০২৪-এর ৫ আগস্টে পালিয়ে যান নাসির উদ্দিন দুলালও; কিন্তু পালিয়ে থেকেও তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকেন্দ্রিক হত্যা ও বিভিন্ন ফৌজদারি ঘটনায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে নতুন কমিটির সদস্যদের হয়রানি শুরু করে। শুধু তাই নয় নতুন কমিটির ১ নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রবাসী ইসমাইল হোসেন প্রধানিয়াকে মিথ্যা মামলায় হাসপাতাল থেকে ডিবি পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করায়। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার শুরু হলে জামিন পান ইসমাইল হোসেন।
সম্প্রতি সে নাসির উদ্দিন দুলাল প্রকাশ্যে এসে রমনা থানা বিএনপির কয়েকজন বিতর্কিত নেতাকে হাত করে আবার মার্কেট ও অ্যাপার্টমেন্ট পরিচালনা কমিটি দখলে নেয়ার চেষ্টা শুরু করে। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় বর্তমান কমিটির সে ইসমাইল হোসেন প্রধানিয়া। যার কারণে গতকাল তাকে ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে পুলিশে দেয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, শুক্রবার ইসমাইল তার মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ফেরার সময় অ্যাপার্টমেন্টের গেটের সামনে তাকে আটক করে নাসির উদ্দিন দুলালের লোকজন। তারা ইসমাইলের সাথে ধস্তাধস্তি করে তার পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে দেয়। এরপর রমনা থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে রমনা থানার ওসির সাথে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।



