নিজস্ব প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং আইনজীবী রিজওয়ানা ইউসুফকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার বুলিং ও অপপ্রচারের ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছেন আদালত। বিচার বিভাগকে বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নাম-পরিচয়সহ পূর্ণাঙ্গ অভিযোগ জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
গতকাল সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো: গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ নির্দেশনা দেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো: শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো: মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। শুনানি চলাকালে বিচারপতি মো: শফিউল আলম মাহমুদ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিচারব্যবস্থাকে যদি এভাবে বাধাগ্রস্ত করা হয়, তাহলে রাষ্ট্র টিকবে কিভাবে? বিচার বিভাগের স্বাধীনতাই বা থাকবে কোথায়? আমরা এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’
শুনানিতে সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরীর আইনজীবী রিজওয়ানা ইউসুফ ট্রাইব্যুনালের নজরে আনেন যে, চট্টগ্রামে একটি অনুষ্ঠানে তোলা তার ও চিফ প্রসিকিউটরের একটি ছবি বিকৃত করে ফেসবুকে ছড়ানো হচ্ছে। অপপ্রচারে দাবি করা হচ্ছে, মামলার বিষয়ে তাদের মধ্যে ‘গোপন সমঝোতা’ হয়েছে।
রিজওয়ানা ইউসুফ বলেন, ‘চিফ প্রসিকিউটরের সাথে সুসম্পর্ক থাকার কারণে আমাকে বিশেষ সুবিধা দেয়া হচ্ছে- এমন কুৎসা রটানো হচ্ছে। অথচ ফজলে করিম আমার প্রাক্তন স্বামী। এসব অপপ্রচারে আমরা সামাজিকভাবে চরম হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছি।’ তিনি আরো অভিযোগ করেন, এক রাজনৈতিক নেতা হুমকি দিয়েছেন, তাদের ইচ্ছেমতো রায় না হলে ট্রাইব্যুনাল গুঁড়িয়ে দেয়া হবে।
এ সময় প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম আদালতকে জানান, কেবল আসামিপক্ষ নয়, প্রসিকিউশন ও ট্রাইব্যুনালের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর সমালোচনা ছড়ানো হচ্ছে, যা সংশ্লিষ্টদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করছে।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে ট্রাইব্যুনাল বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পরিপন্থী। আদালত নির্দেশ দেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তাদের নাম-পরিচয় ও সুনির্দিষ্ট তথ্যসহ একটি আবেদন দাখিল করতে হবে। এরপর বিষয়টি বিবেচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ দিকে সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরীর মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য প্রসিকিউশনের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আগামী ১৬ মার্চ পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন।



