ডিমলায় ২ কোটি টাকার আশ্রয়ণ প্রকল্পে মাত্র ১০ পরিবারের বসবাস

৯০টি ঘর বছরের পর বছর তালাবদ্ধ পড়ে রয়েছে

Printed Edition

মো: রেজোয়ান ইসলাম ডিমলা (নীলফামারী)

ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের পুনর্বাসনের জন্য নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পে ১০০টি ঘরের মধ্যে মাত্র ১০টিতে পরিবার বসবাস করছে। বাকি প্রায় ৯০টি ঘর বছরের পর বছর তালাবদ্ধ ও পরিত্যক্ত পড়ে রয়েছে। এতে সরকারি অর্থ ব্যয়ের কার্যকারিতা এবং উপকারভোগী নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সরেজমিনে উপজেলার সøুইসগেট আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ ঘরের দরজায় তালা ঝুলছে। কোথাও আগাছা ও ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে, কোথাও দীর্ঘ দিনের অযতেœ স্থাপনা নষ্ট হচ্ছে। কয়েকটি ঘরের আঙিনায় চাষাবাদ হলেও অধিকাংশ ঘরই জনশূন্য।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে উপকারভোগী নির্বাচনে যথাযথ যাচাই-বাছাই হয়নি। রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতের কারণে নিজস্ব বসতভিটা থাকা ব্যক্তিরাও ঘর পেয়েছেন বলে তাদের দাবি। অন্য দিকে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীন অনেক পরিবার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

প্রকল্পে বসবাসকারী হনুফা বেগম বলেন, ‘এখানে আমরা মাত্র ১০টি পরিবার থাকি। রাতে খুব ভয় লাগে। যাদের নামে ঘর, তাদের অনেকেই এখানে থাকেন না।’

তহমিনা বেগম বলেন, লোকজন কম থাকায় চুরি-ডাকাতির ভয় রয়েছে। টিউবওয়েলসহ বিভিন্ন জিনিস চুরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। স্থানীয়দের ভাষ্য, জনবসতি কম থাকায় প্রকল্প এলাকা নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে। গত ২৯ মার্চ ও ১৮ জুন দু’টি ডাকাতির ঘটনার পর বাসিন্দাদের আতঙ্ক আরো বেড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শফি উদ্দিন বলেন, ‘ঘর বরাদ্দের সময় রাজনৈতিক প্রভাব ছিল। প্রকৃত গৃহহীনদের অনেকেই ঘর পাননি।’

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: ইমরানুজ্জামান বলেন, এসব ঘর অনেক আগেই বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। বর্তমানে যেসব ঘর খালি রয়েছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত আশ্রয়হীন ও গৃহহীনদের পর্যায়ক্রমে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়া হবে। সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাই প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার।