নয়া দিগন্ত ডেস্ক
চীনের রেস্তোরাঁ ব্যবসায় দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে রোবট ওয়েটার। শ্রম ব্যয় কমানো, দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর গ্রাহকসেবা উন্নত করতে দেশটির অনেক রেস্তোরাঁয় মানবকর্মীর পাশাপাশি রোবট ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে এ প্রবণতা আরো বাড়বে।
চীনের বেইজিং, সাংহাই, শেনজেন ও হাংঝৌসহ বিভিন্ন শহরের রেস্তোরাঁয় ইতোমধ্যে রোবট খাবার পরিবেশন, টেবিল শনাক্ত, ব্যবহৃত থালা সংগ্রহ এবং গ্রাহকদের স্বাগত জানানোর মতো কাজ করছে। আধুনিক সেন্সর, ক্যামেরা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সফটওয়্যারের মাধ্যমে এসব রোবট মানুষের সাথে ধাক্কা না খেয়ে নির্ধারিত টেবিলে খাবার পৌঁছে দিতে সক্ষম।
রেস্তোরাঁ মালিকদের মতে, কর্মীসঙ্কট মোকাবেলা এবং সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে রোবট কার্যকর ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে একাধিক টেবিলে দ্রুত খাবার পৌঁছে দেয়া এবং একই ধরনের কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে করার ক্ষেত্রে রোবট সুবিধা দিচ্ছে। তবে গ্রাহকদের অর্ডার গ্রহণ, বিশেষ চাহিদা পূরণ ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের মতো কাজে এখনো মানবকর্মীদের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে।
প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, রোবট ওয়েটার মানবশ্রমের সম্পূর্ণ বিকল্প নয়; বরং কর্মীদের সহায়তা করে সেবার মান বাড়ানোর একটি উপায়। ফলে ভবিষ্যতে মানুষ ও রোবটের সমন্বিত ব্যবস্থাই রেস্তোরাঁ শিল্পে বেশি দেখা যেতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, চীনে সেবা খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ার সাথে সাথে রোবটভিত্তিক সেবার পরিধিও সম্প্রসারিত হবে। একই সাথে গ্রাহকদের জন্য আরো দ্রুত, নির্ভুল ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা নিশ্চিত করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।



