নিকলীতে এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে জজের নামে প্রতারণার অভিযোগ

আলি জামশেদ, নিকলী (কিশোরগঞ্জ)
Printed Edition

কিশোরগঞ্জের নিকলীতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক দত্তের বিরুদ্ধে এক জেলা জজের নাম ব্যবহার করে প্রভাব খাটানো ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি একটি সরকারি উন্নয়নকাজে বাধা এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনায় জেলা জজ পরিবারের পক্ষ থেকেও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত ৬ জানুয়ারি নয়া দিগন্তে ‘সাবেক ছাত্রলীগ ক্যাডার নিকলীর এসি ল্যান্ডে প্রতীক দত্তের দাপট’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশের পর প্রতীক দত্তের বিরুদ্ধে ভূমি ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির নতুন তথ্য সামনে আসে। এরই ধারাবাহিকতায় নিকলী উপজেলা সদরের মিরহাটি এলাকায় একটি সরকারি পানি নিষ্কাশন ড্রেন নির্মাণকাজে প্রশাসনিক বাধার অভিযোগ ওঠে। টেন্ডার অনুযায়ী কাজ শুরু করতে গেলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও এলাকাবাসী বাধার মুখে পড়েন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে সেখান থেকে এসি ল্যান্ডের কাছে পাঠানো হয়। স্থানীয়দের দাবি, এসি ল্যান্ড তখন পাশের ওয়ার্ডের এক জেলা জজের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন এবং আইনি প্রশ্ন তুললে ‘সব কাজ সব সময় আইনের ভেতর দিয়ে হয় না’ এমন মন্তব্য করেন। এতে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে স্থানীয়রা ওই জেলা জজের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। ঘটনাটি জানাজানি হলে ৬ জানুয়ারি ঘটনাস্থলে শতাধিক মানুষ সাংবাদিকদের কাছে এসি ল্যান্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ধরেন। এ সময় জেলা জজ মামুনের বড় ভাই পরিচয় দেয়া সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হারুন আল কাইয়ুম জানান, ড্রেন নির্মাণকাজের সাথে তার ভাইয়ের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি বলেন, ‘আমার ভাই একজন জেলা জজ। তার নামে কেউ অপপ্রচার করলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

এসি ল্যান্ড প্রতীক দত্তের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জেলা জজের নাম ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেন। সংশ্লিষ্ট বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ দিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিক অনিয়মের অভিযোগ সত্ত্বেও প্রতীক দত্ত বহাল তবিয়তেই দায়িত্ব পালন করছেন। তার বিরুদ্ধে চর, নদী, খাল-বিল ও বালু-মাটি ভরাট সংক্রান্ত বিরোধ উসকে দেয়ার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়রা দাবি করেন, এসব অনিয়মে তিনি একটি শক্তিশালী বলয় তৈরি করেছেন। দ্রুত তাকে অপসারণের দাবিও উঠেছে।

এ বিষয়ে এসি ল্যান্ড প্রতীক দত্তের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা মজুমদার মুক্তি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লাকেও একাধিকবার ফোন করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।