দুই শতাধিক ব্যবসায়ী নিয়ে চীনা বাণিজ্যমন্ত্রী ঢাকায়

বাংলাদেশ-চীন দুই সমঝোতা স্মারক সই

Printed Edition
চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন তাকে অভ্যর্থনা জানান : পিআইডি
চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন তাকে অভ্যর্থনা জানান : পিআইডি

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

চীন বাংলাদেশের মৎস্য খাত ও সমুদ্রসীমার সম্পদ আহরণে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত। গতকাল শনিবার ঢাকার একটি হোটেলে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দু’টি সমঝোতা স্মারক সই করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাও। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অবাধ বাণিজ্য প্রসারে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন ও ই-কমার্স বিষয়ে সহযোগিতা সংক্রান্ত দু’টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে।

ওয়াং ওয়েনতাও চীনের দুই শতাধিক ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের একটি দল নিয়ে শনিবার দুপুরে তিন দিনের সফরে ঢাকায় পৌঁছান। এরপর বিকেলে ঢাকার একটি হোটেলে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বৈঠকে চীনের বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে কৃষি খাতে ড্রোন প্রযুক্তির সহায়তা চেয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা জোরদার করতে এই সহায়তা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে সার, বীজ বপন,কীটনাশক ছিটানো ও ফসল নিরীক্ষণে বিপ্লব আনা সম্ভব। চীনের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বাংলাদেশের কৃষিখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”

বাংলাদেশের সাথে প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করে চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “চীন কৃষি ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে প্রস্তুত। বিশেষ করে স্মার্ট কৃষি ও ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে আমরা সহযোগিতা করতে পারি।”

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, “বাংলাদেশের বিশাল সমুদ্রসীমা থাকলেও আধুনিক মাছ ধরার জাহাজ ও প্রযুক্তির অভাবে এই খাতের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। চীনের সহায়তায় গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা ও প্রক্রিয়াকরণের সুযোগ বাড়লে রফতানি আয় বৃদ্ধি পাবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।”

মাছ ধরার জাহাজ ও প্রযুক্তি সহায়তার আহ্বান জানিয়ে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “সামুদ্রিক মৎস্য খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশের জন্য অত্যাধুনিক মাছ ধরার জাহাজ ও মৎস্য প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তি প্রয়োজন। চীনের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা আমাদের এই খাতকে আরো শক্তিশালী করতে পারে। বাংলাদেশ এখন জনসংখ্যাগত সুবিধায় আছে। এখানে তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে শ্রমিক পাওয়া যায়। এখানকার শ্রমিকরা দক্ষ ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হওয়ায় তারা দ্রুত ও ভালো কাজ করতে পারে। আসুন এ দেশে বিনিয়োগ করুন এবং উভয় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সাহায্য করুন।”

এ সময় তিনি চামড়াজাত শিল্প, হালকা প্রকৌশল, কৃষি যন্ত্রপাতি ও কৃষি প্রযুক্তি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও ওষুধ শিল্পে চীনের বিনিয়োগের প্রত্যাশা করেন।

চীনা বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের সাথে মৎস্য ও সমুদ্রসম্পদ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘চীন বাংলাদেশের মৎস্য খাত ও সমুদ্রসীমার সম্পদ আহরণে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত।’

চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছরপূর্তি ইতোমধ্যে পার হয়েছে। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন বিশেষ করে এ দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে চীন সরকার বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে- যার সুফল এ দেশের জনগণ ভোগ করছে।”

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি খাতে আরো সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে ছিলেন বাণিজ্য সচিব, শিল্প সচিব, কৃষি সচিব ও বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান।

অপর দিকে চীনের প্রতিনিধি দলে ছিলেন বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডাইরেক্টর জেনারেল অব আউটওয়ার্ড ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন, চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডাইরেক্টর জেনারেল অব দ্য ডিপার্টমেন্ট অব এশিয়ান অ্যাফেয়ার্স।

চীনা প্রতিনিধি দলটি আজ রোববার বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আয়োজিত একটি সেমিনারে অংশ নেবে। সেখানে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ ছাড়া, প্রতিনিধি দল জয়েন্ট ইকোনমিক কমিটির বৈঠকে অংশ নেবে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করবে বলেও জানা গেছে।

চীনা প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ঢাকা সফরকালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সাথে পৃথক বৈঠক করবেন। সফরকালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কই প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে। এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ আরো বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।