চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন সীমান্ত পথে পুশইনের চেষ্টায় এবার ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সুপরিকল্পিতভাবে ঢাল হিসেবে নারী ও শিশুদের ব্যবহার শুরু করেছে। সেই সাথে কৌশল হিসেবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর মানবিক দুর্বলতাকে হাতিয়ার বানিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বিএসএফের প্রতিটি কৌশলকে বিজিবি এবং সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষ একযোগে রুখে দেয়ার চেষ্টায় অবিচল রয়েছে।
চলতি বছরের ৪ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর ও শিবগঞ্জ সীমান্তে অন্তত চারবার বড় ধরনের অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা চালিয়েছে বিএসএফ। এই চার দফায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ মোট ৬৯ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত সবাইকে ভারতের অভ্যন্তরেই ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে বিএসএফ।
এই ঘটনাগুলো বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিএসএফের পুশইন চেষ্টায় দলগুলোতে নারী ও শিশুদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। মোট ৬৯ জনের এই বিশাল বহরে মাত্র ১৯ জন পুরুষ ছিল। বাকি ৫০ জনই ছিল নারী ও শিশু। এর মধ্যে নারী ছিল ৩০ জন এবং শিশু ছিল ২০ জন। ধারণা করা হচ্ছে বিএসএফ একটি মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে কাঁটাতারের জিরো লাইনে শিশু-নারীদের জড়ো করেছিল। তীব্র ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে জিরো লাইনে তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রেখে বিজিবির নৈতিক মনোবল ভাঙার জন্য এটা ছিল এক অপচেষ্টা। বিএসএফ মৌসুমের প্রাকৃতিক অবস্থাকে কাজে লাগিয়ে কৌশলগত সুবিধা আদায়ের চেষ্টা চালিয়েছে। প্রতিটি পুশইনের জন্য বেছে নেয়া হয়েছে গভীর রাত কিংবা ভোরবেলার মতো সংবেদনশীল সময়কে। যাতে করে সাধারণ মানুষ ও টহল দল কিছুটা অসতর্ক থাকে; কিন্তু শেষ পর্যন্ত পেরে ওঠেনি বিএসএফ।
এ দিকে স্থলসীমান্তে সুবিধা করতে না পেরে বিএসএফ রুট বদল করে নদীপথেও অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালিয়েছে। রোকনপুরের নদী দিয়ে গভীর রাতে নৌকাযোগে নিঃশব্দে মানুষ পার করার চেষ্টা চালিয়েছে। এই কাজে তারা অর্থের বিনিময়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরের স্থানীয় দালাল ও মাঝির সাথে গোপন আঁতাত গড়ে তুলেছিল। অবশ্য বিজিবির গোয়েন্দা জালে সেই পরিকল্পনাও ভেস্তে যায়। এভাবে চারবার পুশইনের অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।
৫৯ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতিতে চলছে। বিএসএফের যেকোনো কৌশল নস্যাৎ করতে বিজিবি এখন আরো বেশি আধুনিক ও কৌশলগত টহল জোরদার করেছে। সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে সীমান্ত সংলগ্ন সাধারণ মানুষের দেশপ্রেম, যারা বিজিবির সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে।
আর ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, জেলায় চারটি পুশইন প্রচেষ্টার মধ্যে এই ব্যাটালিয়নের আওতাধীন সীমান্ত এলাকায় ঘটেছে তিনটি। প্রত্যেকটি ঘটনা স্থানীয়দের সাথে নিয়ে রুখে দেয়া হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় সীমান্তে বিজিবি অতন্দ্র প্রহরীর কাজ করছে।



