দুই দশকে ৬২ বাঘের মৃত্যু

সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনে আগের তুলনায় বাঘের সংখ্যা বেড়েছে। তবে বিগত দুই দশকে ৬২ বাঘের মৃত্যু হয়েছে। এসব বাঘের মধ্যে ২৬টি দুষ্কৃতকারীদের হাতে নিহত এবং ১৪টি গণপিটুনিতে মারা গেছে। এছাড়া ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরের জলোচ্ছ্বাসে ২১টির অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পূর্ব বিভাগে ৩০টি এবং পশ্চিম বিভাগে ৩২টি বাঘ প্রাণ হারায়। সর্বশেষ ২০২৩ সালে একটি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। এরপর গত দুই বছরে সুন্দরবনে নতুন করে কোনো বাঘের মৃত্যু হয়নি। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় বাঘের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বনে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সীমিত ও সংরক্ষিত করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে বন বিভাগ।

বন বিভাগ বলছে, চোরা শিকারিদের শিকার, লোকালয়ে আসা এবং অসুস্থতা ও বার্ধক্যই এসব বাঘের মৃত্যুর প্রধান কারণ। তাদের ভাষ্য, এই সময়ে বনের বাংলাদেশ অংশে ৬২টি বাঘ মারা গেছে। এ অবস্থায় বনের এই প্রাণিকূলের আবাসস্থল সুরক্ষার পাশাপাশি চোরা শিকারিদের দৌরাত্ম্য রোধ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের খুলনা বিভাগীয় বনকর্মকর্তা (ডিএফও) নির্মল কুমার পাল বলেন, সুন্দরবনের ২০২৩ সালে সবশেষ একটি বাঘের মৃত্যু হয়েছিল, এরপর থেকে আর কোনো বাঘের মৃত্যু হয়নি। বাঘ রক্ষায় সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়ায় এমন সফলতা এসেছে।

বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজ করা ‘বাংলাদেশ ন্যাচার অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ প্রোটেকশন সেন্টারের’ সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ বনি সাংবাদিকদের বলেন, বাঘ সুন্দরবনের সৌন্দর্য। বাঘ আছে বলেই এখনো বন অনেকটা সুরক্ষিত। বিভিন্ন সময়ে চোরা শিকারিদের হাতে বনের অসংখ্য বাঘ মারা পড়েছে।

চোরা শিকারিরা অতি লাভের আশায় সুন্দরবনের এই বন্যপ্রাণী হত্যা করে চামড়াসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ বিক্রি করে থাকে। চোরা শিকারিদের তৎপরতা কিন্তু থেমে থাকে না। সুযোগ পেলেই সঙ্ঘবদ্ধ চক্রটি বাঘ হত্যা করে চড়ামূল্যে বিক্রি করে। সুন্দরবনের বাঘ রক্ষায় বননির্ভর মানুষের অবাধ যাতায়াত নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এতে বনের ওপর চাপ কম কমবে। আমাদের যেমন সচেতন হতে হবে, তেমনি বন রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও আরো তৎপর হতে হবে।

ডিএফও নির্মল কুমার আরো বলেন, সুন্দরবনের দুই বিভাগে চারটি রেঞ্জ কার্যালয়, ১১টি স্টেশন এবং ৬১টি টহল ফাঁড়ি রয়েছে। এসব টহল ফাঁড়ির বনরক্ষীরা নিয়মিত টহল দেন। বাঘসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর সুরক্ষায় স্মার্ট পেট্রোলিং টিমও সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে।

তিনি জানান, বাঘ যাতে লোকালয়ে আসতে না পারে এবং এলেও মানুষের হাতে প্রাণ না হারায়, সে জন্য বনসংলগ্ন উপজেলাগুলোর স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে বিভিন্ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটির মাধ্যমে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এছাড়া সাধারণ মানুষের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ ঠেকাতে সুন্দরবনের দুই বিভাগে এরই মধ্যে ৭৪ কিলোমিটার এলাকায় নাইলনের দড়ি দিয়ে বেড়া (ফেন্সিং) দেয়া হয়েছে। স্থানীয় কমিটিগুলোর সহযোগিতায় বন বিভাগ বাঘ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি বনের সব ধরনের প্রাণীর সুরক্ষায় কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।