ব্রির এক কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত তদন্ত কমিটি গঠন

Printed Edition

গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে (ব্রি) নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) নিয়োগের চার দিনের মাথায় এক কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার জেরে প্রতিষ্ঠানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্রি কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

লিখিত অভিযোগে অর্থ ও হিসাব বিভাগের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, গত রোববার হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করা নিয়ে বিরোধের জেরে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। তার পেটে ও ঘাড়ে ঘুষি মারা হয় এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভিডিও মুছে ফেলা হয়। পরবর্তীতে ফোন ফেরত পেয়ে তিনি রিসাইকেল বিন থেকে ভিডিও উদ্ধার করে সংরক্ষণ করেন। রুহুল আমিনের দাবি, সিনিয়র সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মো: কাওছার আহমদের ইন্ধনে এ ঘটনা ঘটে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উপ-পরিচালককে সরিয়ে ব্রিতে একচেটিয়া প্রভাব বিস্তার করেছিলেন কাওছার আহমদ। দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রাখা হয়েছে। বর্তমানে নতুন মহাপরিচালক ড. রফিকুল ইসলাম দায়িত্ব নেয়ার পরপরই কাওছার তার অনুসারীদের দিয়ে এই অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটিয়েছেন। তবে কাওছার আহমদ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ঘটনা তদন্তে ব্রি বিজ্ঞানী সমিতির সভাপতি ড. মো: ইব্রাহিমকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। ডিজি ড. রফিকুল ইসলাম জানান, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্য দিকে ভুক্তভোগী কর্মকর্তা জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।