রয়টার্স
বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিরোধ বাড়ায় জাতিসঙ্ঘের কর্তৃত্ব এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে আর এই বিশ্ব সংস্থায় উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্বও অত্যন্ত অপর্যাপ্ত বলে মন্তব্য করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।
বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থাকে আরো ন্যায়সঙ্গত ও সমতাপূর্ণ করার প্রস্তাবনা সংবলিত একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের জন্য বুধবার বেইজিংয়ে আয়োজিত এক বিরল সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব মন্তব্য করেন। ‘গ্লোবাল সাউথ’এর আওয়াজ জাতিসঙ্ঘের মঞ্চে আরো বেশি করে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে ওয়াং ই বলেন, ‘দেশগুলো বড় হোক বা ছোট, শক্তিশালী হোক বা দুর্বল, উন্নত হোক বা উন্নয়নশীল, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিটি দেশই সমান মর্যাদার অধিকারী।’
দ্রুত একের পর এক নতুন চ্যালেঞ্জ এসে বৈশ্বিক সঙ্কটগুলোকে আরো জটিল করে তুলছে উল্লেখ করে ওয়াং ই আরো বলেন, ‘মানব সভ্যতার জাহাজটি এখন গুপ্ত শৈলশিরা ও প্রচণ্ড ঝড়ে উত্তাল এক বিপজ্জনক নৌসীমায় প্রবেশ করেছে ।’ তিনি বলেন, চলমান বিবাদগুলো মূলত দীর্ঘমেয়াদি দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ, বিশ্বমঞ্চে এখন ক্রমাগত ‘ব্ল্যাক সোয়ান’ এবং ‘গ্রে রাইনো’ জাতীয় ঘটনাগুলো ঘটে চলেছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে ‘ব্ল্যাক সোয়ান’ বলতে সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত কোনো সঙ্কট এবং ‘গ্রে রাইনো’ বলতে এমন কোনো দৃশ্যমান বড় হুমকিকে বোঝানো হয় যা সামনে থাকা সত্ত্বেও সাধারণত অবহেলা করা হয়।
নিজের বক্তব্যে ওয়াং ই পশ্চিম এশিয়া এবং ইউক্রেইন সঙ্ঘাতের কথা উল্লেখ করলেও এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বিবরণ দেননি। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই শ্বেতপত্রের মূল লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলোর বিরুদ্ধে আরো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য একটি আন্তর্জাতিক ঐকমত্য গড়ে তোলা আর এই উদ্যোগের সাফল্যের জন্য জাতিসঙ্ঘের কর্তৃত্ব ও মর্যাদাকে সমুন্নত রাখা অত্যন্ত মৌলিক একটি শর্ত।



