ডোমারে একই পরিবারের ৪ জন ও রংপুরে শিক্ষক নিহত

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

সড়ক দুর্ঘটনায় নীলফামারীর ডোমারে একই পরিবারের চারজন এবং রংপুরে মহানগরে এক মাদরাসা শিক্ষক নিহত হয়েছেন।

নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজন নিহত ও দুইজন আহত হয়েছেন। রোববার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে জলঢাকা-ডোমার আঞ্চলিক সড়কের এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ডোমার উপজেলার পাঙ্গামটকপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নদীয়াপাড়ার ওলি বর্ম্মনের ছেলে ভ্যানচালক পরিমল বর্ম্মন (৪০), তার ছোট ভাই প্রদীপ বর্ম্মনের স্ত্রী প্রতিমা বর্ম্মন (৩০), তার দুই সন্তান বিপাশা বর্ম্মন (৮) ও যাদব বর্ম্মন (৪)। এ সময় নিহত প্রতিমার আহত জমজ সন্তান নম্রত বর্ম্মন (৪) ও অপর যাত্রী সহিদুল ইসলামকে (৪০) উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিবারটি ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের মোড়ালের ডাঙ্গা এলাকায় বিয়ের অনুষ্ঠানে দাওয়াতে যাচ্ছিলেন। এ সময় জলঢাকা থেকে ডোমারের দিকে আসছিল একটি ট্রাক (বগুড়া ট ১৯-২৪৭২) দ্রুত গতিতে এসে ওই সড়কের একবট নামক স্থানে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী ভ্যানকে ধাক্কা দেয়। এরপর ট্রাকটি সড়কের ধারে পড়ে যায়। এতে ভ্যানের চালকসহ একই পরিবারের চার যাত্রী ঘটনাস্থলে নিহত হয় ও নিহত প্রতিমার জমজ সন্তান নম্রত বর্ম্মন ও অপর যাত্রী সহিদুল ইসলাম আহত হয়। খবর পেয়ে ডোমার ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও এলাকাবাসী নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে ডোমার হাসপাতালে নেয়। এখান থেকে আহত দুইজনকে রংপুর মেডিক্যালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

রংপুর ব্যুরো জানায়, রংপুর মহানগরীর মডার্ন মোড় এলাকায় ঢাকা কোচের চাপায় একজন মাদরাসার সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট মারা যাওয়ার ঘটনায় বাসটি পুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধরা। মহাসড়ক অবরোধ করায় দুই ঘণ্টা রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলার সাথে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রোববার সকাল ১০টায় মডার্ন মোড় তুলা উন্নয়ন বোর্ডের অফিসের সামনের রাস্তার পাশে স্থানীয় জিয়াদ পুকুর দাখিল মাদরাসার সহকারী সুপার আবুল কাশেম (৪৫) তার চার বছর বয়সী সন্তান তাসফিয়াকে মাদরাসায় পৌঁছে দেয়ার জন্য রাস্তার একপাশে দাঁড়িয়েছিলেন। হঠাৎ রংপুর থেকে ঢাকাগামী আর এম স্পেশাল কোচ (ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-১৯৮২) পেছনে ব্যাক করার সময় তাদের চাপা দেয়। এতে তার সন্তান বেঁচে গেলেও ঘটনাস্থলেই মারা যান আবুল কাশেম। মৃত আবুল কাশেম মিঠাপুকুরের ছড়ান বালুয়া এলাকার মৃত আব্দুল গফুরের পুত্র। মাদরাসা সুপার হওয়ার সুবাধে নগরীর ধর্মদাস মিলনপাড়ায় বসবাস করতেন।

এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা বাসটিকে আটক করে পুড়িয়ে দেয়। পরে তারা রংপুর-ঢাকা ছয় লেনের সড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে ঢাকার সাথে রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়ের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে যায়। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এসে বাসের আগুন নেভায়। এ দিকে তাৎক্ষণিকভাবে গাড়ির চালক মর্তুজাকে (৫৬) আটক করে পুলিশে দেয় জনতা। শাস্তির আশ্বাস দিলে বেলা ১২টায় তারা সড়ক অবরোধ তুলে নেয়। আটক চালক নগরীর আলমনগর এলাকার মৃত ইসমাইলের পুত্র।