আলজাজিরা
ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প অবকাঠামো ধ্বংসের লক্ষ্যে দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলের বেশ কিছু কারখানায় নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী। এতে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিজিয়া শহরের ‘জাপোরিজস্তাল’ স্টিল প্ল্যান্ট, দিনিপ্রো অঞ্চলের ‘ইন্টারপাইপ স্টিল’ কারখানা এবং প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নিজ শহর ক্রিভি রিহের একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কৃষ্ণসাগরের চোরনোমোর্স্ক বন্দরে থাকা দু’টি পণ্যবাহী জাহাজও রাতে চালানো এ হামলায় আক্রান্ত হয়েছে।
এই পদক্ষেপটি সামারা অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘাতের পর পাল্টাব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইউক্রেনের সেনা সদর দফতর থেকে জানানো হয়, তাদের একটি ড্রোন তোলিয়াত্তি শহরের ‘তোলিয়াত্তিকাউচুক’ কেমিক্যাল কারখানায় আঘাত হেনেছে, যা রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের বিশেষ জ্বালানি উপাদান তৈরি করত। তবে মস্কো দাবি করেছে, তারা ঈৎরসবধ, আজভ ও কৃষ্ণসাগরসহ প্রায় এক ডজন অঞ্চলে ইউক্রেনের ২৩০টি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। ওই ঘটনায় তোলিয়াত্তিতে একটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত ও এক নাগরিক আহত হন এবং তাগানরোগের চারটি বাণিজ্যিক স্থাপনায় আগুন ধরে। ২০২২ সালে সঙ্ঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই ইউক্রেনের অর্থনীতি ও সরবরাহব্যবস্থা পঙ্গু করতে তাদের শক্তি খাত, যোগাযোগব্যবস্থা ও সামরিক কারখানাগুলোতে ধারাবাহিকভাবে আঘাত হানছে রাশিয়া। বিপরীতে, রাশিয়ার যুদ্ধের রসদ ও অর্থপ্রবাহ কমাতে তাদের অভ্যন্তরীণ তেল শোধনাগার এবং অবকাঠামো লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন অপারেশন জোরদার করেছে ইউক্রেন। উদ্ভূত এই পরিস্থিতির মধ্যেই জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে জেলেনস্কি ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরে ফ্লোরিডার জি-২০ সম্মেলনে উভয় নেতা নিমন্ত্রিত হলে তিনি ভøাদিমির পুতিনের সাথে সরাসরি বৈঠকে বসতে প্রস্তুত।
এ দিকে গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার কিয়েভের একাধিক জ্বালানি পাম্পে রুশ হামলায় প্রাণহানি ঘটেছে, যা বেসামরিক অঞ্চলে নতুন তৎপরতার সঙ্কেত দিচ্ছে। দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, জাপোরিজিয়া, খারকিভ ও কিয়েভ সংলগ্ন এলাকায় রুশ হামলায় আরো কয়েকজনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং রাজধানী শহরটিতে ১২ বছরের এক বালকসহ বহু মানুষ আহত হয়েছেন। বন্দরনগরী ওদেসাতেও রাতভর বিমান হামলায় প্রায় এক ডজন বাসিন্দা আঘাতপ্রাপ্ত হন। পাল্টা হিসেবে রাশিয়ার অভ্যন্তরেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন চালায় ইউক্রেন। এতে কুরস্ক, বেলগোরোদ এবং রুশ নিয়ন্ত্রিত দোনেৎস্ক অঞ্চলে চারজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। ভলগোগ্রাদে একটি শিল্পকারখানা ও দু’টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কয়েকজন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির স্থানীয় প্রশাসন।



