১০২ কোটি টাকার আধুনিকায়নেও ধুঁকছে কেরুজ চিনিকল

মনিরুজ্জামান সুমন, দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা)
Printed Edition
কেরু অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের মূল প্রবেশদ্বার  :  নয়া দিগন্ত
কেরু অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের মূল প্রবেশদ্বার : নয়া দিগন্ত

১০২ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিকায়ন করা কেরুজ চিনিকল এখন কর্তৃপক্ষের জন্য বড় সঙ্কটে পরিণত হয়েছে। নতুন যন্ত্রপাতিতে বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়ায় চলতি আখ মাড়াই মৌসুমে ভয়াবহ বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র ৯৬ ঘণ্টার কার্যক্রমে ৫৩ ঘণ্টাই আখ মাড়াই বন্ধ রাখতে হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষক, পরিবহন চালক ও মিলের উৎপাদনে।

চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে আনা আখ নির্ধারিত সময়ে মাড়াই না হওয়ায় মাঠ ও মিল চত্বরে পড়ে থেকে রোদে শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে আখের গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে এবং চিনি আহরণের হার কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দফায় দফায় বিক্ষোভ করছেন ট্রাক ও ট্র্যাক্টরচালকসহ আখ চাষিরা।

২০২৫-২৬ আখ মাড়াই মৌসুমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় ৫ ডিসেম্বর। আধুনিকায়নকৃত কারখানায় মাড়াই শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত পুরনো মিলেই কার্যক্রম শুরু হয়। ৩০ ডিসেম্বর প্রথম ক্রাশিং শেষ হওয়ার পর ১ জানুয়ারি থেকে নতুন কারখানায় আখ মাড়াই শুরু হলে একের পর এক যান্ত্রিক বিপর্যয় দেখা দেয়।

মিল সূত্রে জানা যায়, ৩১ ডিসেম্বর ৬ ঘণ্টা, ১ জানুয়ারি ২৩ ঘণ্টা, ২ জানুয়ারি ৬ ঘণ্টা, ৩ জানুয়ারি ১৫ ঘণ্টা এবং ৪ জানুয়ারি প্রায় ৩ ঘণ্টা মিল বন্ধ রাখতে হয়। মিল হাউজ, বয়লার, টারবাইনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রে ত্রুটির কারণেই বন্ধের এই ঘটনা ঘটে। মিলে জায়গা সঙ্কট থাকায় পাওয়ার ট্রলিতে আনা আখ ওজন শেষে মাটিতে ফেলে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। মিলের নিজস্ব ট্রাক্টরে আনা আখও দীর্ঘ সময় গাড়িতেই পড়ে থাকছে। এতে আখ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি লোকসানের ঝুঁকি বাড়ছে। ক্ষুব্ধ কৃষক ও চালকরা একাধিকবার মিল ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন।

এ দিকে দীর্ঘ ১৩ বছরেও শেষ হয়নি কেরুজ চিনিকলের আধুনিকায়ন কাজ। ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত মিলটির যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন ধরেই জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। ২০১২ সালে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে প্রথমে ৪৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। পরে প্রকল্প সংশোধনের মাধ্যমে বরাদ্দ বাড়িয়ে ১০২ কোটি ২১ লাখ টাকা করা হয়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির মাধ্যমে কাজ শুরু হলেও সাব-কন্ট্রাক্ট নেয় ভারতের সায়সিদা সুগার ইকুইপমেন্ট কোম্পানি। পরে তারা কাজ ছেড়ে দিলে দায়িত্ব নেয় উত্তম এনার্জি লিমিটেড। নির্ধারিত দুই বছরে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সাত দফা মেয়াদ বাড়িয়ে ১৩ বছরেও প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হয়নি। আর্থিক অগ্রগতি দেখানো হয়েছে ৭৮ দশমিক ৩২ শতাংশ।

সম্প্রতি একনেক প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে। আইএমইডির সুপারিশ অনুযায়ী, আর কোনো সময় বা ব্যয় বাড়ানো যাবে না।

ট্রায়াল রান চলাকালে বিকট শব্দ ও অপরিশোধিত বর্জ্যপানিতে দর্শনাবাসী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এ বিষয়ে মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন, সদর দফতরের নির্দেশনায় আধুনিকায়নকৃত কারখানায় আখ মাড়াইয়ের চেষ্টা চলছে। যান্ত্রিক সমস্যাগুলো কাটিয়ে ওঠার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।