ত্রাণ তহবিলের অনুদান বিতর্কে রিহ্যাবের এজিএম স্থগিত

Printed Edition

হামিম উল কবির

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দুই কোটি টাকা অনুদান দেয়াকে কেন্দ্র করে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশে (রিহ্যাব) বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। ১০ জন পরিচালক এ অনুদানকে তহবিল তসরুপ আখ্যা দিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করার পর সংগঠনটির ১ আগস্টের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) স্থগিত করা হয়। অন্য দিকে ১৬ জন পরিচালক বর্তমান নেতৃত্বের পক্ষে অবস্থান নিয়ে দাবি করেছেন, পরিচালনা পর্ষদের নীতিগত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই অনুদান দেয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের আবাসন খাতের অন্যতম শীর্ষ সংগঠনটির কার্যক্রম স্থবির হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রিহ্যাব সূত্রে জানা গেছে, সংগঠনের সভাপতি ড. আলী আফজালের নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দুই কোটি টাকার একটি চেক হস্তান্তর করা হয়। অভিযোগকারী পরিচালকদের দাবি, এ সিদ্ধান্ত গ্রহণে পরিচালনা পর্ষদের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। তাই তারা বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে উত্থাপন করেন।

এ অভিযোগের শুনানি গত ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত হয়। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ১ আগস্ট নির্ধারিত রিহ্যাবের এজিএম স্থগিত করে। ফলে সংগঠনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

অন্য দিকে ১৬ নির্বাচিত পরিচালক পৃথক চিঠিতে বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, দ্বিতীয় বোর্ড সভায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অনুদান দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। যদিও তখন অনুদানের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়নি। পরে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের সময় আকস্মিকভাবে নির্ধারিত হওয়ায় নতুন বোর্ড সভা আহ্বান সম্ভব হয়নি। সেই নীতিগত সিদ্ধান্তের আলোকে দুই কোটি টাকার চেক দেয়া হয়।

তাদের দাবি, দ্বিতীয় বোর্ড সভার কার্যবিবরণীতেই ত্রাণ তহবিলে অনুদান দেয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে। অনুদানের পরিমাণ ভাইস প্রেসিডেন্টদের আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে বোর্ডের অনুমোদন নেয়ার সুযোগও ছিল। অভিযোগকারী পরিচালকেরা দুই কোটি টাকা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করলেও অর্থটি প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অনুদান হিসেবে দেয়া হয়েছে- এ বিষয়টি উল্লেখ করছেন না বলেও তারা অভিযোগ করেন।

রিহ্যাবের সভাপতি ড. আলী আফজাল বলেন, নির্বাচনের পর সবাইকে নিয়েই সংগঠন পরিচালনা করা হচ্ছে এবং অভিযোগকারী পরিচালকেরাও গুরুত্বপূর্ণ কমিটির দায়িত্বে রয়েছেন। বর্তমান আবাসন খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। মতপার্থক্য বা ভুলত্রুটি থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে চান বলেও তিনি জানান। তার ভাষায়, সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করতে পরিচালনা পরিষদ ও সাধারণ সদস্যদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চান।

রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পরিচালনা পরিষদের ১০ সদস্য অভ্যন্তরীণ আলোচনার পরিবর্তে সরাসরি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেছেন। কোনো অভিযোগ থাকলে প্রথমে বোর্ডে আলোচনা হওয়া উচিত ছিল। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের সময় হঠাৎ নির্ধারিত হওয়ায় দুই কোটি টাকা অনুদানের বিষয়ে আলাদা বোর্ড সভা করা সম্ভব হয়নি। তবে দ্বিতীয় বোর্ড সভায় ত্রাণ তহবিলে অনুদান দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত ছিল। তার দাবি, চেকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অর্থ প্রদান করা হয়েছে, তাই এটিকে কোনোভাবেই তহবিল তসরুপ বলা যায় না। তিনি আরো বলেন, উচ্চপর্যায় থেকে অনুদান দেয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছিল।

এ দিকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতে সব ভাইস প্রেসিডেন্ট ও পরিচালককে অন্তর্ভুক্ত না করায় কিছু পরিচালকের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে বলেও জানা গেছে। রিহ্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রথমে পাঁচ সদস্যের তালিকা পাঠানো হলেও প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে সভাপতিসহ মাত্র তিনজনের উপস্থিতি নির্ধারণ করে দেয়া হয়।

অভিযোগকারী পক্ষের অন্যতম প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আক্তার বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি জানান, বর্তমানে ওমরা পালনের জন্য মক্কায় অবস্থান করছেন এবং দেশে ফিরে এ বিষয়ে কথা বলবেন।