পাইকগাছায় স্লুইস গেটে ধস, প্লাবনের আশঙ্কায় তিন ইউনিয়ন

Printed Edition
গদাইপুর ইউনিয়নের কচুবুনিয়া স্লুইস গেইটের ওপর নির্মিত সড়কের একটি অংশ ধসে গেছে : নয়া দিগন্ত
গদাইপুর ইউনিয়নের কচুবুনিয়া স্লুইস গেইটের ওপর নির্মিত সড়কের একটি অংশ ধসে গেছে : নয়া দিগন্ত

শেখ দীন মাহমুদ পাইকগাছা (খুলনা)

খুলনার পাইকগাছায় শিবসা নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারের পানির চাপে গদাইপুর ইউনিয়নের কচুবুনিয়া স্লুইসগেটে ভয়াবহ ফাটল ও ধস দেখা দিয়েছে। গেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ধসে নিচের দিকে দেবে গেছে। ফলে স্লুইসগেটটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ার পাশাপাশি পাশের সড়কও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে। যেকোনো মুহূর্তে গেটের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ভেঙে শিবসা নদীর জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়তে পারে। এতে অন্তত তিনটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৬ আগস্ট রাতের কোনো একসময় শিবসা নদীতে জোয়ারের পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। অতিরিক্ত পানির চাপ সামলাতে না পেরে কচুবুনিয়া স্লুইসগেটের কাঠামোয় প্রথমে বড় ধরনের ফাটল দেখা দেয়। পরে মুহূর্তের মধ্যে গেটের একটি অংশ ধসে নিচের দিকে দেবে যায়। এতে গেট-সংলগ্ন সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। পাশাপাশি গেটের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দিয়ে পানি ঢোকার আশঙ্কায় আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসী। অনেকে রাত জেগে গেট এলাকায় পাহারা দিচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, ১৬-১৭ নম্বর পোল্ডারের আওতাধীন কচুবুনিয়া স্লুইসগেটটি শুধু একটি এলাকার পানি ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণই নয়; আশপাশের অন্তত তিনটি ইউনিয়নের পানি নিষ্কাশন ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে উজানের পানির চাপের পাশাপাশি শিবসা নদীর জোয়ারের পানি বেড়ে যাওয়ায় গেটটি এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

গদাইপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল হাসান গাজী বলেন, স্লুইসগেটটি পুরোপুরি ধসে গেলে শিবসা নদীর পানি প্রবল বেগে লোকালয়ে ঢুকে পড়বে। এতে গদাইপুর, কপিলমুনি ও হরিঢালী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকার বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও মৎস্যঘের প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই সাথে কোটি কোটি টাকার সম্পদেরও ক্ষতি হতে পারে।

কপিলমুনি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য বদরুল আলম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত স্লুইসগেটটি উন্মুক্ত হলে কচুবুনিয়াসহ কপিলমুনির শ্যামনগর, আগরঘাটা, কাজিমুছা, মালত এবং গদাইপুরের গদাইপুর, তকিয়া ও মঠবাটী এলাকার বসতি, কাঁচা-পাকা সড়ক, শত শত হেক্টর কৃষিজমি ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে যেতে পারে।

এ দিকে স্লুইসগেটের এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হলেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নেয়ায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্রমাগত ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে।

গদাইপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শেখ খোরশেদুজ্জামান বলেন, স্লুইসগেটটির জন্য ইউনিয়ন পরিষদের কোনো বরাদ্দ নেই। এটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) আওতাধীন। ফলে পরিষদের উদ্যোগে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে উপজেলা প্রশাসন বা পাউবো দায়িত্ব দিলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

এ বিষয়ে পাউবোর এসও রাজু হাওলাদের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, স্লুইসগেট দিয়ে লবণাক্ত পানি লোকালয়ে ঢুকলে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। এতে বিশুদ্ধ পানির সঙ্কটের পাশাপাশি ঘরবাড়ি, গবাদিপশু, মাছের ঘের ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। তাই বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে দ্রুত স্লুইসগেটটি মেরামত এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।