রাজধানীতে তীব্র গ্যাস সঙ্কট

তিতাস কর্মকর্তাদের উদাসীনতার অভিযোগ

ভুক্তভোগী গ্রাহকরা বলছেন, বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে তিতাসে ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসররা গ্যাসের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করতে পারে। অথবা নতুন কোনো সিন্ডিকেটের নতুন কোনো ফরমূলা বাস্তবায়নের জন্য কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করা হতে পারে।

আমিনুল ইসলাম
Printed Edition

তীব্র গ্যাস সঙ্কটে ভয়াবহ ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজধানীবাসী। বিশেষ করে মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডিসহ আশপাশের বাসিন্দাদের গ্যাসের অভাবে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এসব এলাকার কোথাও কোথাও মিট মিট করে চুলা জ্বললেও বেশির ভাগ এলাকায় বিন্দুমাত্র গ্যাসও নেই।

বাধ্য হয়ে অনেকেই ছুটছেন হোটেল রেস্তোরায়। কিন্তু একাধারে বাইরের খাবার খাওয়ায় শিশুসহ অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। যার কারণে কেউ কেউ কিনছেন বৈদ্যুতিক চুলা। কিন্তু তাতেও যোগ হচ্ছে বাড়তি ভোগান্তি। এ দিকে রান্নার গ্যাস না থাকা এখন আর কেবল একটি জ্বালানি সঙ্কট নয়, বরং তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের চরম অব্যবস্থাপনায় একটি মানবিক ও প্রশাসনিক সঙ্কটে রূপ নিয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গ্যাস না থাকার কষ্টের চাইতে বড় ভোগান্তি হচ্ছে গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর কোম্পানি তিতাসের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা। গ্রাহকদের অভিযোগ গ্রহণের জন্য এলাকাভিত্তিক যেসব কর্মকর্তার মোবাইল নম্বর দেয়া রয়েছে তার প্রায় সবগুলোই থাকে বন্ধ। হেলপ সার্ভিসে ফোন করলে ৩ থেকে ১০ মিনিট অপেক্ষা করিয়ে যিনি ফোন রিসিভ করেন তিনি মূলত তেমন কোনো ইনফরমেশনই জানেন না। শুধু বলতে থাকেন সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা দুঃখিত। দুই তিনদিন অপেক্ষা করতে হবে।

ভুক্তভোগী গ্রাহকরা বলছেন, বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে তিতাসে ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসররা গ্যাসের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করতে পারে। অথবা নতুন কোনো সিন্ডিকেটের নতুন কোনো ফরমূলা বাস্তবায়নের জন্য কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করা হতে পারে।

মিরপুরের পশ্চিম শেওড়াপাড়া চন্দ্রিমা হাউজিংয়ের বাসিন্দা ফয়েজ আহমেদ বলেন, গত আট বছর তিনি একই বাসায় বসবাস করছেন। গ্যাস নিয়ে কোনোদিন এমন ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি। আগে শীতের সময় মাঝে মধ্যে গ্যাসের চাপ কম থাকত। কিন্তু সম্পূর্ণভাবে চুলা বন্ধ থাকেনি কোনোদিন। অথচ গত তিন দিনে তার এলাকার কোনো চুলায় এক ফোটা গ্যাসও পাওয়া যাচ্ছে না। যার কারণে রান্নাসহ অন্যান্য কাজ বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে এই তথ্য তিতাসকে জানানোর কোনো ব্যবস্থা নেই। কর্মকর্তাদের মোবাইল নম্বরে ফোন দিলেই বন্ধ পাওয়া যায়। অভিযোগ জানাতেও তাদের জোনাল অফিসে সরাসরি উপস্থিত হতে হয়। সেখানে গেলেও তেমন কোনো সুফল পাওয়া যায় না।

আলমগীর হোসেন বলেন, প্রতিটি ঘরেই শিশুরা রয়েছে। রয়েছে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত বৃদ্ধরা। তাদের সময়মত স্বাস্থ্যসম্মত খাবার রান্না করে দিতে হয়। কিন্তু গত তিনদিন ধরে একটু গ্যাসও পাওয়া যাচ্ছে না। যার কারণে হোটেল থেকে অধিক তেল মসলা ও টেস্টিং সল্ট মেশানো খাবার কিনে খেতে হচ্ছে। একাধারে এই খাবার খেয়ে অনেক শিশুর পেটে অসুখ শুরু হয়েছে। অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা তাদের রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না।

মিরপুরের মিলন রহমান বলেন, তাদের এলাকায় গ্যাসের মেইন পাইপের কাছে থাকা কয়েকটি বাসায় সামান্য পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যায়। এ ছাড়া আর কোনো বাসায় গ্যাস নেই। তিনি বলেন, বিগত বছরগুলো এমন সমস্যায় পড়তে হয়নি। তার অভিযোগ বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে তিতাসে থাকা কর্মকর্তারা কোনো কারসাজি করছে। যাতে করে মানুষের মধ্যে সরকার বিরোধী মনোভাব তীব্র আকার ধারণ করে।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিতাসের এক কর্মকর্তা বলেন, লাইনে গ্যাস কম থাকায় চাপ সৃষ্টি হচ্ছে না। যার কারণে সব বাসায় গ্যাস পৌছাতে পারছে না। লাইনে কেন গ্যাস কম জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের প্রাকৃতিক গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। এই গ্যাসের সাথে আমদানি করা এলএনজি সরাবরাহ করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি এলএনজি সরবরাহে বিঘœ ঘটায় গ্রাহকদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।