এএফপি
মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে ইতালির রাজধানী রোমে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের সংলাপ পিছিয়ে আগামী অক্টোবর মাসে নির্ধারণ করা হয়েছে। ওয়াশিংটন পূর্বে জানিয়েছিল, চলতি সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকেই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, রোমের আলোচনা পিছিয়ে গেলেও আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন লেবানন ও ইসরাইলের রাষ্ট্রদূতরা। গত জুনে সম্মত হওয়া একটি ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তির অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং তা বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে কথা বলবেন তারা। এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মূল শর্তের মধ্যে রয়েছে হিজবুল্লাহর অস্ত্রসংবরণ, দক্ষিণ লেবানন অঞ্চল থেকে পর্যায়ক্রমে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং নির্দিষ্ট কিছু পরীক্ষামূলক এলাকায় লেবাননের রাষ্ট্রীয় বাহিনী মোতায়েন।
মার্কিন ওই প্রতিনিধির মতে, লেবাননের নিজস্ব সার্বভৌমত্ব এবং ইসরাইলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই সমঝোতাই একমাত্র টেকসই বিকল্প। মূলত চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ শুরু করলে, হিজবুল্লাহ ইসরাইলের সীমান্ত অভিমুখে রকেট ছোঁড়ার মাধ্যমে লেবাননকেও এই সঙ্ঘাতের ভেতর টেনে নিয়ে আসে। জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যস্থতার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে ওই সমঝোতা স্বাক্ষর হওয়ার পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও সম্প্রীতি আবার সঙ্ঘাত বৃদ্ধি পেয়েছে। অতি সম্প্রতি দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর নির্মিত বিশাল একটি সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বিস্ফোরণের মাধ্যমে গুঁড়িয়ে দেয় ইসরাইলি বাহিনী, যার কম্পন রিখটার স্কেলে ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে ধরা পড়ে। এএফপিকে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, আসন্ন জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনের প্রস্তুতি, ইহুদি ধর্মীয় ছুটি এবং লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীকে সহায়তার লক্ষ্যে প্যারিসে আয়োজিত সম্মেলনসহ বেশ কিছু জরুরি ব্যস্ততার কারণে প্রধান প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকতে না পারায় বৈঠকটি আপাতত পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।



