- ৩০ কোটি বই মুদ্রণের মুখে বড় কেলেঙ্কারি
- এনসিটিবির তদারকি নিয়ে প্রশ্ন
শাহেদ মতিউর রহমান
২০২৭ শিাবর্ষের দ্বিতীয় শ্রেণীর ইংরেজি বইয়ের প্রচ্ছদে জাতীয় শিাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সরবরাহ করা মূল নকশার পরিবর্তে ভিন্ন ছবি ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আনন্দ প্রেসের বিরুদ্ধে। সরকারের অনুমোদিত ডামি পাশ কাটিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রচ্ছদের নদীর ছবিতে বিশেষ রাজনৈতিক প্রতীক (নৌকা) ছাপিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চক্রান্তের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে তদন্তকারী দল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আনন্দ প্রেসকে শোকজ করেছে এনসিটিবি। একই সাথে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ এনে লাইসেন্স বাতিলের দাবি তুলেছেন অন্যান্য প্রেস মালিকরা।
এনসিটিবির অফিসিয়াল নথিপত্র ও কারণ দর্শানোর নোটিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৭ শিাবর্ষের প্রাথমিক স্তরের কোমলমতি শিার্থীদের জন্য প্রণীত ‘ঊহমষরংয ভড়ৎ ঞড়ফধু’ বই মুদ্রণের চূড়ান্ত ডামি ও সফটকপি গত ২০ জুন সংশ্লিষ্ট প্রেসকে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু মুদ্রণ শেষে দেখা যায়, এনসিটিবি নির্ধারিত প্রচ্ছদের ছবি পরিবর্তন করে তাতে কৌশলে রাজনৈতিক প্রতীক যুক্ত ভিন্ন একটি ছবি ছাপানো হয়েছে। এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, একটি বইয়ের প্রচ্ছদের ছবি হুট করে পরিবর্তন হওয়া কোনো সাধারণ মুদ্রণ বা টাইপোগ্রাফিক ভুল হতে পারে না। এটি টেন্ডারের শর্তাবলি, অনুমোদিত নমুনা এবং ডামিসংক্রান্ত স্পষ্ট নির্দেশনার চূড়ান্ত ব্যত্যয়। ঘটনাটিকে জাতীয় চেতনা ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তির ওপর আঘাত হিসেবে চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে এনসিটিবি।
প্রেসপাড়া ও এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, বিতর্কিত আনন্দ প্রেসের মালিক রব্বানী জব্বার আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক আইসিটি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের ছোট ভাই। তিনি নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, নতুন সরকারকে প্রশাসনিকভাবে বিব্রত করতেই পরিকল্পিতভাবে পাঠ্যবইয়ে এই অসঙ্গতি তৈরি করা হয়েছে। প্রচ্ছদ কেলেঙ্কারির ঠিক এক সপ্তাহ আগেই নিম্নমানের কাগজের ব্যবহারের দায়ে আনন্দ প্রেস থেকে এনসিটিবি প্রতিনিধিরা অভিযান চালিয়ে প্রায় এক শ টন কাগজ জব্দ করেছিলেন। এর পরপরই প্রচ্ছদে এ ধরনের বড় কারসাজির ঘটনা প্রকাশ্যে এলো।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৭ শিাবর্ষে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত প্রায় ৩০ কোটি ৬১ লাখের বেশি বিনামূল্যের বই মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছে এনসিটিবি। ওপেন টেন্ডারিং মেথডে (ওটিএম) সরকারি ই-জিপি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোগ্য প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হলেও প্রুফ তদারকি এবং প্রিন্টিং কপির সঠিকতা যাচাইয়ে এনসিটিবির তদারকির ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ করা চূড়ান্ত সফটকপির সাথে মুদ্রিত কপির মিল নিশ্চিত করা এবং মনিটরিং ব্যবস্থা আরো জোরদার না করলে কোমলমতি শিার্থীদের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছাবে। প্রথম দিনে শিার্থীদের হাতে মানসম্মত বই তুলে দেয়ার পাশাপাশি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও সমান জরুরি।
পাঠ্যবইয়ে অননুমোদিত ছবি ব্যবহার এবং প্রচ্ছদ পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে আনন্দ প্রেসের মালিক রব্বানী জব্বারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল এবং একাধিক খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।



