শাকসু ভোটে শিবিরের আধিপত্যের ইঙ্গিত সোচ্চারের জরিপে

Printed Edition
শাকসু ভোটে শিবিরের আধিপত্যের  ইঙ্গিত সোচ্চারের জরিপে
শাকসু ভোটে শিবিরের আধিপত্যের ইঙ্গিত সোচ্চারের জরিপে

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনকে সামনে রেখে শীর্ষ তিন পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থীদের আধিপত্যের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গতকাল (১৯ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘সোচ্চার : টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশ’ এ জরিপ রিপোর্ট প্রকাশ করে। জরিপে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে শিবির প্রার্থীদের এগিয়ে থাকার তথ্য উঠে এসেছে।

৪৬৯ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে পরিচালিত এই জরিপে ভিপি পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের দেলোয়ার হাসান শিশির ৩২ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পেতে পারেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের প্রার্থী মোস্তাকিম বিল্লাহ পেতে পারেন ১২ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট।

এজিএস পদেও ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থী মো: শাকিল (শাকিল মাহমুদ) এগিয়ে রয়েছেন। জরিপ অনুযায়ী, তিনি ২৭ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট পেতে পারেন। অপর দিকে একই পদে ছাত্রদলের প্রার্থী মো: জহিরুল ইসলাম পেতে পারেন ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট। জিএস পদে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে জরিপে। এতে বলা হয়, ছাত্রশিবিরের মো: মুজাহিদুল ইসলাম ১৬ দশমিক ২ শতাংশ, ছাত্রদলের মারুফ বিল্লাহ ১৫ দশমিক ১ শতাংশ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ফয়সাল হোসেন ১০ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট পেতে পারেন। সোচ্চার জানিয়েছে, জরিপে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪০ দশমিক ১ শতাংশ নারী, ১০ দশমিক ৪ শতাংশ অমুসলিম এবং ১ দশমিক ১ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী রয়েছেন।

অংশগ্রহণকারীদের ৮১ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা শাকসু নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে ছাত্রীদের মধ্যে এই হার ৭০ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ছাত্রদের মধ্যে ৮৭ দশমিক ৯ শতাংশ।

জরিপে আরো উঠে এসেছে, ৪৯ শতাংশ শিক্ষার্থী মনে করেন অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফল শাকসুর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া ২৪ দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তারা ক্যাম্পাসে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ৫৯ দশমিক ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী মনে করেন, শাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ক্যাম্পাসকে নির্যাতনমুক্ত করতে পারবেন।

সোচ্চারের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যারা এখনো সিদ্ধান্ত নেননি- তাদের ভোটিং আচরণ ও ডেমোগ্রাফিক তথ্য বিবেচনায় নিলে ভিপি পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থী মোট ৫৩ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হতে পারেন। একইভাবে জিএস পদে শিবিরের প্রার্থী ৩১ দশমিক ৪ শতাংশ এবং এজিএস পদে ৪৬ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেতে পারেন বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।