নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর তুরাগ এলাকায় তারাবির নামাজ পড়তে গেলে ঘরে একা থাকা গৃহবধূ রেজিনা মমতাজ (৫৯) দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন। ঘটনার এক দিনের মধ্যেই ক্লুলেস এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে জড়িত দু’জন- নুরে আলম বাঘ (৪৭) ও রাসেল মাদব্বর ওরফে রাসেল ইসলাম জনিকে (২৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, তুরাগ থানাধীন ১৫ নম্বর সেক্টরের একটি ফ্ল্যাটে স্বামীর সাথে বসবাস করতেন রেজিনা মমতাজ। গত সোমবার রাত ৮টা ৫ মিনিটে তার স্বামী তারাবির নামাজ আদায়ের জন্য বাসা থেকে বের হন।
রাত ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে বাসায় ফিরে তিনি দেখতে পান, স্ত্রীর হাত-পা কাপড় দিয়ে বাঁধা, নাক ও মুখে স্কচটেপ প্যাঁচানো এবং তিনি মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। এ সময় ঘরের মালামাল এলোমেলো অবস্থায় ছিল। পরে তাকে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, রাত ৮টা ১৮ মিনিটে মুখোশধারী দুই ব্যক্তি ফ্ল্যাটে যায়। তারা রেজিনার হাত-পা বেঁধে এবং নাক-মুখে স্কচটেপ প্যাঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর একটি স্বর্ণের চেইন, এক জোড়া স্বর্ণের চুড়ি ও একটি স্বর্ণের নাকফুল লুট করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় তুরাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
পরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নুরে আলমকে তুরাগের ১৫ নম্বর সেক্টর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকার ১২ নম্বর সেক্টরের একটি অফিস থেকে লুণ্ঠিত এক জোড়া স্বর্ণের চুড়ি, একটি স্বর্ণের চেইন, একটি পিতলের নাকফুল এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত স্কচটেপ ও একটি ভাঙা চশমা উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া একই দিন সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে উত্তরা উত্তর মেট্রো স্টেশন এলাকা থেকে অপর অভিযুক্ত রাসেল মাদব্বর ওরফে রাসেল ইসলাম জনিকে গ্রেফতার করা হয়।



