নবীনদের র‌্যাগিং দেয়ায় জাবির ১২ শিক্ষার্থী আটক

Printed Edition

জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) গভীর রাতে নবীন শিক্ষার্থীদের ডেকে নিয়ে ‘ম্যানার’ শেখানোর নামে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে ইতিহাস বিভাগের ১২ সিনিয়র শিক্ষার্থীকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শনিবার রাত ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এই অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে ইতিহাস বিভাগের ৫৫তম ব্যাচের কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থীকে ডেকে প্রথমে মহুয়া মঞ্চ এবং পরে স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠসংলগ্ন একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ‘ফরমাল পরিচয়’ ও আচরণ শেখানোর নামে তাদের বাবা-মাকে নিয়ে অশালীন ভাষায় গালাগাল, কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখা এবং বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা হয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো: এহসানুল হক ও রাজ খান অভিযোগ করেন, এটি তাদের সাথে প্রথম ঘটনা নয়; এর আগেও বিভিন্ন সময় গভীর রাত পর্যন্ত কেন্দ্রীয় মাঠে নিয়ে তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। নির্যাতন চলাকালে জাকসু নেতা মোহাম্মদ আলী চিশতী, হুসনে মোবারক এবং প্রক্টোরিয়াল টিম এসে তাদের উদ্ধার করে।

জাকসুর অ্যান্টি-র‌্যাগিং সেলের সদস্য হুসনে মোবারক জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা পাওয়ার পর প্রশাসনকে অবহিত করা হয়। পরে সহকারী প্রক্টর ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এসে অভিযুক্তদের আটক করে নিরাপত্তা অফিসে নিয়ে যান। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ৫৪তম ব্যাচের ১২ শিক্ষার্থী প্রক্টোরিয়াল টিমের কাছে লিখিতভাবে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

আটককৃতরা হলেন- সুভাশীষ রায়, নাছিম উদ্দিন মজুমদার, আবু আবতাহী অনিক, নাইমুল হাসান, আব্দুল্লাহ মাহদী, ইসফাক হাদী সিক্ত, মো: রায়হান খান, কাজী শাহ জামসেদ আলম নাবিল, সাইফুল্লøাহ মানসুর আনান, মো: মাহফুজুর রহমান অন্ত, কার্তিক চন্দ্র রায় ও নাইম আহমেদ সজিব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, গভীর রাতে র‌্যাগিংয়ের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে সংশ্লিষ্টদের আটক করে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি প্রক্টোরিয়াল বডির সভায় উপস্থাপন করা হবে এবং সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরবর্তী আইনি ও একাডেমিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।