টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক তদন্ত চেয়ে রিট

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাজারে প্রচলিত দেশী-বিদেশী বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২৬টি টুথপেস্টে মানবদেহ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’ থাকার সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে স্বাধীন তদন্ত কমিটির নির্দেশ চেয়ে হাই কোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার জনস্বার্থে এ রিট আবেদনটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন। বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে আবেদনটির ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

আবেদনকারী আইনজীবী জানান, বেশ কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পরীক্ষা করা টুথপেস্টগুলোর একেকটি নমুনায় ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য বাজারে থাকা ছয়টি টুথপেস্টের চারটিতে এবং চিকিৎসকদের পরামর্শে ব্যবহৃত ও তুলনামূলক বেশি দামের পণ্যেও এই প্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। দেশীয় ব্র্যান্ডের পাশাপাশি থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ভারত থেকে আমদানি করা টুথপেস্টেও ক্ষতিকর এই উপাদান পাওয়া গেছে। তবে এখনই বাজার থেকে টুথপেস্ট প্রত্যাহারের কোনো নির্দেশনা চাওয়া হয়নি উল্লেখ করে আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের আরজি জানানো হয়েছে। তদন্তে ক্ষতিকারক প্রভাব প্রমাণিত হলে পরবর্তীতে বাজার থেকে সেসব পণ্য তুলে নেয়াসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে আবেদন জানানো হবে।

রিট আবেদনে বলা হয়, নিত্য ব্যবহার্য টুথপেস্টে ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি এবং তা রোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ব্যর্থতা সংবিধান স্বীকৃত জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও মৌলিক অধিকার অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। মামলায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য, শিল্প মন্ত্রণালয়, বিএসটিআই, পরিবেশ অধিদফতর, ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর এবং পুলিশ প্রধানকে বিবাদি করা হয়েছে। আবেদনটিতে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরকে আগামী এক মাসের মধ্যে গবেষণামূলক পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করার পাশাপাশি তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিকযুক্ত টুথপেস্টের উৎপাদন, সরবরাহ ও আমদানি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।