চুয়াডাঙ্গায় বাণিজ্যিকভাবে ভ্যানিলা চাষে আলোড়ন

Printed Edition

এফ এ আলমগীর চুয়াডাঙ্গা

সনাতনী কৃষিব্যবস্থার বাইরে গিয়ে চুয়াডাঙ্গায় প্রথমবারের মতো অত্যন্ত দামি মসলা ও সুগন্ধি ফসল ‘ভ্যানিলা’ চাষ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন উদ্যমী কৃষক হুমায়ুন কবীর ফরাজী (৫১)। চার বছরের নিরবচ্ছিন্ন পরিচর্যার পর তার তৈরি গ্রিন হাউসে এখন শোভা পাচ্ছে থোকায় থোকায় ভ্যানিলা ফল।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর কলোনীপাড়ার বাসিন্দা হুমায়ুন তার ১৮ বিঘা জমির ওপর গড়ে তুলেছেন ‘নিউ কামাল এগ্রো’ নামের এক সমন্বিত কৃষি খামার। সেখানে বিভিন্ন ফল ও পশুপালনের পাশাপাশি প্রধান আকর্ষণ হিসেবে নজর কাড়ছে ১০ কাঠা জায়গার ওপর তৈরি কৃত্রিম জলবায়ু নিয়ন্ত্রিত ভ্যানিলা বাগান।

দীর্ঘদিন ফল ব্যবসার সাথে যুক্ত থাকা হুমায়ুন কবীর ২০২২ সালে প্রতিবেশী দেশ থেকে পেনিফোলিয়া জাতের ভ্যানিলার লতা এনে এই চাষ শুরু করেন। গ্রিন হাউস প্রযুক্তিতে ছায়াযুক্ত ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে প্রায় ৭০০টি পিলারে এখন ঝুলছে ৮-১০ ইঞ্চি লম্বা বরবটি সদৃশ ভ্যানিলা ফল। এ পর্যন্ত তার প্রায় ৯ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। চলতি মৌসুমে বাগান থেকে প্রায় ১২০ কেজি ভ্যানিলা সংগ্রহের আশা করছেন তিনি। বাজারে প্রতি কেজি শুকনো ভ্যানিলার দাম প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। প্রক্রিয়াজাতকরণ শেষে এ বছরই ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা বিক্রির লক্ষ্য রয়েছে তার। বাংলাদেশের আবহাওয়া কঠিন হলেও ১৬-২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বজায় রেখে নিয়ন্ত্রিত উপায়ে ভ্যানিলা উৎপাদন সম্ভব বলে তিনি প্রমাণ করেছেন।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, হুমায়ুন কবীরের এই সাফল্য প্রমাণ করে সঠিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে দেশে ভ্যানিলা চাষ সম্ভব। এটি ছড়িয়ে দিতে পারলে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফত ানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যাবে।