দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা
চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তির প্রক্রিয়ায় এক বন্দীর কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে এক কারারক্ষীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মামুন অর রশিদ (৪২) কারা অধিদফতরের মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের পর তদন্ত শুরু হয়েছে।
অভিযোগকারী মামুন অর রশিদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার দরবেশপুর এলাকার বাসিন্দা। তার অভিযোগ, একাধিক মামলায় কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে বন্দী থাকার পর ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর তাকে প্রশাসনিক কারণে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৩ মে তিনি জামিন পান। সেদিন বিকেলে অন্য বন্দীদের সাথে মুক্তির প্রক্রিয়ায় তাকে নেয়া হলেও কারারক্ষী হেলাল উদ্দিন তাকে জানান, তার ‘ক্লিয়ারেন্স’ বাকি রয়েছে। পরে জেলারের কার্যালয়ে নিয়ে একটি ‘শোন অ্যারেস্ট’ আবেদন দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে নতুন মামলা রয়েছে বলে জানানো হয় এবং তাকে আবার কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
মামুনের অভিযোগ, পরদিন কারারক্ষী হেলাল উদ্দিন তাকে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ না করলে তিনি মুক্তি পাবেন না। এজন্য প্রথমে দুই লাখ এবং পরে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে মামুনের ভাতিজা রাসেলের সাথে কয়েক দফা কথাবার্তার পর ৭৬ হাজার ৫০০ টাকায় সমঝোতা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ৬ মে বিকেলে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের সামনে এক গলিতে রাসেলের কাছ থেকে ওই টাকা গ্রহণ করেন অভিযুক্ত কারারক্ষী।
মামুন আরো দাবি করেন, আদালত ‘শোন অ্যারেস্ট’ আবেদন গ্রহণ না করে তা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়ার পরও তাকে মুক্তি পেতে বিলম্ব করা হয়েছে। একইভাবে অন্য বন্দীদের কাছ থেকেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগের পর গতকাল শনিবার মেহেরপুর জেলা কারাগারের সুপার মো: আমান উল্লাহ চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে গিয়ে তদন্ত শুরু করেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা আমান উল্লাহ বলেন, অভিযোগের বিষয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য নেয়া হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
অভিযুক্ত কারারক্ষী ও চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সুপারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



