দ্য গার্ডিয়ান
গাজা সিটিতে পাঁচ বছরের শিশু হিন্দ রাজাবসহ তার পরিবারের ছয় সদস্যকে বহনকারী গাড়িতে নির্বিচারে গুলি বর্ষণের কথা স্বীকার করেছে ইসরাইল সামরিক বাহিনী। ২০২৪ সালে সংঘটিত এই নৃশংস ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একটি ফৌজদারি তদন্ত চালুর নির্দেশ দেয়া হয়।
২০২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি গাজা সিটিতে ওই হামলা চালানো হয়। অবরুদ্ধ সেই গাড়ি থেকে প্রাণ বাঁচানোর জন্য ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের কাছে টেলিফোনে টানা প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে সাহায্য চেয়ে আকুতি জানিয়েছিল ছোট্ট হিন্দ। পরবর্তীকালে তাকে উদ্ধার করতে রওনা হওয়া একটি অ্যাম্বুলেন্সেও ইসরাইলি সেনারা হামলা চালায়, যার ফলে দু’জন উদ্ধারকারী প্রাণ হারান। ঘটনার ১২ দিন পর তাদের লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল। এ ছাড়া গত বছরের মার্চে দণি গাজার রাফায় ১৫ জন ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্যকর্মীকে হত্যার ঘটনায়ও পৃথক বিচারিক তদন্ত শুরুর কথা জানিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। জরুরি সেবার যান ল্য করে সিরিজ আক্রমণ চালানোর পর নিহতদের বুলডোজার দিয়ে মাটিচাপা দেয়া হয়েছিল। ইসরাইলি সেনাদের দাবি ছিল যে যানগুলোতে জরুরি সঙ্কেতবাতি চালু ছিল না, তবে সংগৃহীত ভিডিও চিত্রে রেড ক্রিসেন্টের স্পষ্ট লোগো ও বাতি জ্বলতে দেখা গেছে।
অন্য দিকে মার্কিন মানবিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের সাত বিদেশী কর্মীকে আকাশপথে হামলায় হত্যার ঘটনায় কোনো ফৌজদারি তদন্ত না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরাইল। তৎকালীন দুই সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত এবং তিনজনকে তিরস্কার করে একে ‘ভুলবশত ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা’ হিসেবে ব্যাখ্যা দেয়া হলেও সংস্থাটি ওই মন্তব্যকে অপমানজনক ও অবাস্তব বলে বাতিল করে দিয়েছে। একই সাথে ডক্টরস উইদাউট বর্ডারসের (এমএসএফ) চার স্বাস্থ্যকর্মী নিহতের ঘটনাতেও কোনো আইনি বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়নি। জাতিসঙ্ঘের একটি সাম্প্রতিক বিবরণীতে গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর এমন আচরণের মধ্য দিয়ে বিচারহীনতার ব্যাপক সংস্কৃতি বজায় থাকার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা সঙ্ঘাতে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের সিংহভাগই শিশু ও নারী।



