ভোলায় কাজ না করেই টিআর প্রকল্পের ১২ লাখ টাকা আত্মসাৎ

Printed Edition

ভোলা প্রতিনিধি

ভোলা পৌরসভা এলাকায় ড্রেন নির্মাণ, মেরামত ও সংস্কারের জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে টিআর প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও চারটি প্রকল্পের একটিরও কাজ হয়নি। অথচ কাজ না করেই বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন করে নেয়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, সদর রোডের বরিশাল দালানসংলগ্ন সংযোগ ড্রেন নির্মাণে তিন লাখ টাকা, সদর রোডের ঘোষপট্টি সংলগ্ন সংযোগ ড্রেন এবং ১ নম্বর ওয়ার্ডের আমিরুল ইসলামের বাসার সীমানা থেকে আবহাওয়া অফিসের বাউন্ডারি পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণ ও মেরামতের জন্য সাড়ে তিন লাখ টাকা, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোষপট্টি সড়কের ড্রেন সংস্কারে তিন লাখ ৫০ হাজার ৫৯২ টাকা এবং কাশিশ্বর ব্রিজ থেকে খাদ্যগুদাম পর্যন্ত ড্রেন সংস্কার ও মেরামতের জন্য তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

সরেজমিন এসব এলাকায় গিয়ে কোনো নির্মাণ, সংস্কার বা মেরামতকাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। বরিশাল দালান এলাকার ব্যবসায়ী কিরণ ও স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন জানান, কয়েক বছর ধরে ওই সংযোগ ড্রেনে কোনো কাজ হয়নি। কয়েক মাস আগে ড্রেনের সামনে মাটি খুঁড়ে পরে তা আবার বালু দিয়ে ভরাট করা হয়। তখন সেখানে ড্রেন নির্মাণের কথা বলা হলেও পরে আর কোনো কাজ হয়নি।

খাদ্যগুদাম এলাকার ইবাদুর রহমান ও মোশারেফ হোসেন জানান, সাত-আট বছর আগে কাশিশ্বর ব্রিজ থেকে খাদ্যগুদাম পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছিল। এরপর আর সংস্কার বা মেরামত হয়নি। চলতি অর্থবছরে এ কাজে তিন লাখ টাকা বরাদ্দের কথা থাকলেও কোনো কাজ হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পগুলোর কাজ বাস্তবায়নে পৌরসভার পাঁচ কর্মচারীকে নিয়ে কমিটি করা হয়। মো: আনোয়ার হোসেনকে সভাপতি, মো: ফারুককে সম্পাদক এবং জাকীর হোসেন, মো: হাসান ও ইয়াকুবকে সদস্য করা হয়। তাদের ‘সমাজসেবক’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। তবে কমিটির সদস্য জাকীর হোসেন বলেন, প্রকল্পের কাজ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। সাবেক পৌর প্রশাসক মো: মিজানুর রহমানের কথায় তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা ও স্বাক্ষর করেছেন শুধু।

মিজানুর রহমান বলেন, পৌরসভার নাগরিক হওয়ায় পাঁচ কর্মচারীকে বাস্তবায়ন কমিটিতে রাখা হয়েছে। প্রকল্পের টাকা ফেরত না যাওয়ার জন্য উত্তোলন করা হলেও বর্ষা ও তার বদলির কারণে কাজ করা সম্ভব হয়নি। কয়েক দিনের মধ্যে কাজ হবে।

বর্তমান পৌর প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: বেলাল হোসেন বলেন, নথিপত্র যাচাই ও সরেজমিন বিষয়টি দেখা হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে কাজ না হয়ে থাকতে পারে। তবে সরকারি অর্থ আত্মসাতের কোনো সুযোগ নেই।