সোহাগ খন্দকার সাঘাটা (গাইবান্ধা)
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বিগত কয়েক দিন টানা বৃষ্টিপাতের ফলে উত্তরের জনপদ গাইবান্ধার নদ-নদীর পানি কখনো বাড়ছে, কখনো কমছে। তবে পানি কমার সাথে সাথে বেড়েছে স্রোতের তীব্রতা। এর প্রভাবে জেলার তিস্তা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট, করতোয়াসহ বিভিন্ন নদীতে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। এরই মধ্যে বাঙ্গালী নদীর ভাঙনের মুখে পড়েছে সাঘাটা ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলজিইডির প্রায় ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ত্রিমোহনী সেতু। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া না হলে সেতুর সংযোগ সড়ক নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
গত বুধবার ত্রিমোহনী এলাকায় সরেজমিন দেখা যায়Ñ তিস্তা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার পানি কিছুটা কমলেও বাঙ্গালী নদীতে স্রোতের তীব্রতা বেড়েছে। নদীর তীর ভাঙতে ভাঙতে তা ত্রিমোহনী সেতুর পাশ পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। ভাঙনের কারণে সেতুর সংযোগ সড়কও ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
সেতুর পাশের বাসিন্দা শিউলি বেগম বলেন, নদীভাঙনের আতঙ্কে তাদের রাতে ঘুম হয় না। প্রতিদিনই ভয়ে থাকতে হচ্ছে কখন যেন বসতভিটা নদীতে ভেঙে পড়ে। রামনগর গ্রামের বাসিন্দা মকবুল ইসলাম বলেন, ত্রিমোহনী ঘাট এলাকায় আগে থেকেই প্রয়োজনীয় সিসি ব্লক বসানো হয়নি। ফলে স্রোতের তোড়ে ভাঙন দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। একই গ্রামের মোকছেদুর রহমানের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি ভেঙে পড়বে নদীতে।
স্থানীয় জাহিদুল ইসলাম, হাবিজার রহমান ও আব্দুল মতিন জানান, কয়েক মাস ধরে সেতু এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। সংযোগ সড়ক তিগ্রস্ত হলে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের সাথে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ও কচুয়া ইউনিয়নের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। এতে হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়বে।
কচুয়া ইউনিয়নের সাবেক সদস্য ফরমান আলী বলেন, সেতুর দুই পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ড আগে সিসি ব্লক বসালেও সেতুর নিচের অংশে গত সাত বছরে কোনো স্থায়ী প্রতিরা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ কারণেই বর্তমানে ওই এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। কচুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খন্দকার বলেন, সেতুর পাশের ভাঙন দ্রুত রোধ করা না গেলে সংযোগ সড়ক নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।
সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল কবীর বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরের সাথে সমন্বয় করে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হবে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার প্রধান নদীগুলোর পানি কমেছে। একই সাথে জেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নদীভাঙন প্রতিরোধে কাজ চলমান রয়েছে।
গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ বলেন, নদীভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, বর্ষা মৌসুমে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ, সিসি ব্লক বা অন্যান্য ভাঙন-প্রতিরা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে কোটি টাকার এই সেতু এবং গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক রা করা কঠিন হয়ে পড়বে।



