ঈদুল ফিতর উদযাপিত

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে যথাযথ মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। পবিত্র রমজানের এক মাসের সিয়াম সাধনা ও ইবাদত-বন্দেগির পর গত শনিবার সকালে দেশের ঈদগাহ ও মসজিদগুলোতে ঈদের নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। এ সময় বিশেষ মুনাজাতে দেশ-জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি এবং সমৃদ্ধির জন্য দোয়া করা হয়। নামাজ শেষে কোলাকুলি করেন মুসল্লিরা। ঈদের দিন দেশের অনেক জায়গায় বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি বাধা পেরিয়ে নামাজ পড়েন মুসল্লিরা।

ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় ঈদগাহ মাঠে। সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধান জামাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের পঁাঁচটি জামাত। এ ছাড়াও দেশের প্রতিটি মসজিদ এবং ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের নামাজ। জামাত শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় মুনাজাত করা হয়। বিশ্বজুড়ে চলমান অস্থিরতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্যও দোয়া করেন মুসল্লিরা।

ঈদুল ফিতরের ছুটিতে গত কয়েকদিনে শহর ও গ্রামে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। নতুন পোশাক পরে সবাই আনন্দে মেতে উঠেন। পরিবার-পরিজনের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন সবাই। সেমাই, পায়েস, পোলাওয়ের চাল আর নতুন পোশাকের সুবাসে মুখর হয়ে ওঠে প্রতিটি বাড়ি। পরিবার ও প্রিয়জনের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করতে অনেকে রাজধানীসহ শহরগুলো থেকে ফিরে যান গ্রামে। এতে শহরগুলো অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যায়। ঈদ উপলক্ষে সরকারি হাসপাতাল, এতিমখানা, শিশু সদন, আশ্রয় কেন্দ্র ও কারাগারগুলোতে পরিবেশন করা হয় উন্নত মানের খাবার।

ঈদের আনন্দকে আরো বাড়িয়ে তুলতে সারা দেশের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক ভিড় লক্ষ করা যায়। রাজধানীতে শাহবাগ, রমনা পার্ক, জাতীয় সংসদ ভবন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, টিএসসি, হাতিরঝিল, মিরপুর চিড়িয়াখানা, ধানমন্ডি লেকসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে গত কয়েকদিনে ছিলো আনন্দ পিয়াসীদের উপচে পড়া ভিড়। ঈদের ছুটি শেষে আবার কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। ফলে গ্রাম থেকে ঢাকায় ফেরার গাড়ি ছুটছে অবিরত। এতে উৎসব শেষে আবারো কর্মব্যস্ত হতে শুরু করেছে রাজধানী। তবে এখনো চিরচেনা রূপে ফেরেনি রাজধানী। গতকালও ঢাকার রাস্তা ছিল অনেকটাই ফাঁকা।

চট্টগ্রামে ঈদুল ফিতর উদযাপন

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, বন্দর নগরী চট্টগ্রামের বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে ধর্মীয় আবহ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে মুসল্লিদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। নামাজ শেষে পরস্পরের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় ও কোলাকুলির মাধ্যমে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করেন তারা।

চট্টগ্রাম নগরীর অন্যতম বৃহৎ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ময়দানে। এখানে সকাল ৮টায় প্রথম জামাত এবং ৮টা ৪৫ মিনিটে দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম জামাতে ইমামতি করেন খতিব সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দীন আল কাদেরী। দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করেন হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আহমদুল হক আল কাদেরী। উভয় জামাতে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি শরিক হন।

ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা: শাহাদাত হোসেন, সাবেক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, এরশাদ উল্লাহ, সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, সাবেক চসিক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, বিএনপি নেতা আবুল হাসেম বক্কর, মহানগর জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহ ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াতের প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

অন্য দিকে কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত কমিটির ব্যবস্থাপনায় নগরীর এম এ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেশিয়াম মাঠে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন বায়তুশ আদর্শ কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা ড. সাইয়েদ মুহাম্মদ আবু নোমান। ঈদ জামাত কমিটির আয়োজনে নগরীর বিভিন্ন স্থানে মোট ৯০টি ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়।